ঘুণেধরা কঙ্কাল - জাহিদ হাসান
ঘুণেধরা কঙ্কালে মাকড়সা বুনেছে জাল, তারই কম্পনে নাড়া পায় অচল বিষাক্ত জয়েন্টগুলো। অপেক্ষা একটি দমকা হাওয়া, শীলা বর্ষণ অথবা ঘণ গাঢ় কুয়াশার, কঙ্কাল টিকে আছে মাকড়সার কম্পনে চোখে মেখে ক্ষয়িষ্ণু হাল।
মুখোরিত পাঠাগার বিকৃত কঙ্কালের ভয় করেছে পাঠক শূন্য, করেছে ভাবনা শূন্য।
কারো অপলক চাহুনি তাই আর স্পর্শ করেনা, আচর কাটেনা নিস্তব্ধ আর নির্জনতায় বিলুপ্তপ্রায় স্থির অস্থিমজ্জায়।
পর্যবেক্ষণ আর পরিচর্যা আজ পর্যাপ্ত অবহেলিত। মন, ভাবনা, স্বপ্ন আর বিশ্বাসের পাথেয় যেনো পরিশ্রান্ত পথচারীর ক্লান্ত মুছনে ক্ষণিকের বিশ্রামে অজস্র লাল পিপড়া আর বুনো ক্ষুধার্ত পেটে অবলিলায় হজম হওয়া খাদ্য।
কঙ্কাল কেপে ওঠে, ক্ষুদ্র মশার পালকে সৃষ্ট বাতাসের স্পন্দনেও পুরোনো সুর তোলে ধূসর শুকনো বাদ্য।
এ সুর ছোঁয়না কান,স্পর্শ করেনা অনুভূতি, নাড়া দেয়না মস্তিষ্কের স্তরে স্তরে জমাট উপলব্ধির কণায়। অজস্র শব্দের ভীড়, মরিচিকার সজ্জিত অনুভূতি আর অগণিত রাঙা পাপড়ির মৃদু স্পর্শের যানযটে সুর ফিরে আসে, ফিরে আসে বাদ্যের ঠিকানায়, ঘুণেধরা কঙ্কাল আবার নাড়া পায় সুর তোলে বারংবার।
অপেক্ষা একটি দমকা হাওয়া, শীলা বর্ষণ অথাবা ঘণ গাঢ় কুয়াশার।
জাহিদ হাসান
গাইবান্ধা, বাংলাদেশ
-
ছড়া ও কবিতা
-
16-01-2021
-
-