অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
প্রবীর রঞ্জন মণ্ডল এর দু’টি কবিতা

আলোর সন্ধানে
মৃত গাছের ডালে চলে বিবর্ন পাতার একটু নড়াচড়া 
যেখানে সীমাহীন সবুজ অর্ধমৃত, করে উসখুশ
নতুন জীবনের আশায় গোপন গহ্বরে।
দু'একটি সদ‍্য গজান চারাগাছ মাথা তোলে
আলোর সন্ধানে উঁকিঝুঁকি মারে, নিশ্বাস ছাড়ে।
কবে কোন শতাব্দী প্রাচীন প্রপর্ণ গাছের কোঠরে
হয়তোবা শান্তির শ্মশান ভূমিতে কেহ শোনায় 
ললিত বানীর করুণ জীবনবেত্তা নীরব অবকাশে
তবুও তারা নতুন জীবন, সত‍্যের সন্ধানে এগোয়।
নইলে এ জগৎ ব‍্যর্থ হবে অচলায়তনে,জঙ্গমে
গভীর অন্ধকার গাঢ়তর হলে, ঘোর হলে 
নতুন আলোর আভাষ ফুটে ওঠে চারিদিকে।
নবজীবন সত‍্যের সন্ধানে এগিয়ে চলুক 
ঘোর বাধা বিপত্তির পাহাড় কেটে;
একদিন সুন্দর সকাল আঁকা দিন ফুটবেই 
আর সারা প্রান্তজুড়ে সবুজ কচিকাঁচার হাতছানি
জেগে উঠবে আগের মতোই।

বিচ্ছিন্ন কুয়াশায় 
স্বেতপত্রে লিখে ফেলি
ভোরের দুয়োর আঁকা সঙ্গম গান;
গভীরতর রাতের বিচ্ছিন্ন কুয়াশার প্রলেপ 
শিরশিরিয়ে বুকের মাঝে ঝংকার দেয়।
কারা যেন কেড়ে নেয় আদিম প্রবৃত্তির হাত!
গরম ভাতের ফ‍্যান ছড়িয়ে পড়ে 
নির্ঝরের রক্ত ঝরা ক্লেদাক্ত শরীর জুড়ে।
উড়ে আসে মেহনতির স্লোগান,
টান টান উত্তেজনা বুকের বারুদ হয়ে জ্বলে।
ছলেবলে কৌশলে বুকের পাঁজর ভাঙে
হাতুড়ির ঘায়ে
গায়ে জাগে সাম‍্যের গান;
উজান স্রোতটান ফিরে আসে দমকা হাওয়ায়
এ পৃথিবীর শ্রমকিনাঙ্ক মানুষের বুকে।

প্রবীর রঞ্জন মণ্ডল
দঃ২৪পরগনা
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত