সৃষ্টি আজ এরই নাম - প্রদ্যোৎ সেন
চির চেনা পথখানি কখন গিয়েছে ডুবে
মন বলে – ‘বহুদূর যেতে হবে আরও’।
চারদিকে জঞ্জালের স্তূপ
জানা চেনা কূলের সীমান্ত দিগন্তে বিলীন।
পথঘাট একাকার, দুশ্ছেদ্য কুয়াশাজাল,
বিপর্যস্ত স্তব্ধ হতাশায় সহজ নিয়েছে বাঁক,
সংশয়ের চির খাওয়া অভ্যস্ত আবহ।
কংকালের মিছিলের চোখে রুদ্রের ভ্রূকুটি–
চলিষ্ণু পথের ধারে মৃত্যুর হুংকার,
ব্যথায় বিকৃত মুখ সৃষ্টির আনন্দ যত,
স্বপ্নগুলি রক্তমাখা পথের ধূলায়,
বাতাসে ক্লেদের গন্ধ।
অকাল শীতের স্পর্শ জনতার দেহে–
শতাব্দীর পুরাতন অশত্থের ডাল
অবিশ্রান্ত ঝরাতেছে বিবর্ণ হলুদ পত্র।
আকাশে আবর্ত রচে বেদনার সুর,
অন্তিম প্রণাম কার ঘুরে ঘুরে কান্না হয়ে বাজে।
অভ্যস্ত পথের মাঝে অনভ্যস্ত এইসব
দৃষ্টি ঘিরে ধরে।
আকাশে সূর্যের দিকে অমৃতের খোঁজে
ছুটিছে ঈগল নিত্য তীক্ষ্ণ থাবা মেলে,
নিচে জমে অভিশাপ
সর্বসংহা ধরণীর সন্তানের শিরে।
কালের ঢেউয়ের বুকে বস্তুহীন আশ্বাসের স্তূপ-
সুন্দরীর ক্ষণস্থায়ী নূপুর নিক্কন,
খরস্রোতে ভেসে যায় তামাশার মতো।
মগজ বাড়িছে যত,
বুক ততো ছোট হয়ে আসে,
বাহিরে প্রকৃতি যত মার খার মানুষের হাতে
দারিদ্রের শূন্য পাত্র ফাঁপে ততো বেলুনের মতো,
কামনা জমায় ভিড় দেহের কিনারে।
ধ্রুবতারা ডুবে যায় কবে কোন ফাঁকে–
অন্তহীন মেঘের আড়ালে।
সৃষ্টি আজ এরই নাম–
শুধু মনে হয়,
অসংবদ্ধ সংলাপের একগুচ্ছ
“অর্থহীন বাণী”!
প্রদ্যোৎ সেন। বাংলাদেশ
-
ছড়া ও কবিতা
-
16-05-2021
-
-