অটোয়া, শনিবার ১৬ অক্টোবর, ২০২১
শিশু ও বৃদ্ধ - ড: তরুণ শিকদার

(প্রফেসর ড. তারেক শামসুর রহমানের অকাল প্রয়াণে পৃথিবীর সকল পিতামাতার একাকিত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে)

তুমি যখন শিশু ছিলে
আমি ছিলাম বড়
তুমি যখন বড় হলে
আমি হলাম বুড়ো।
তোমার যখন চলার শুরু
দৃঢ় আমার হাত
নির্ভরতা ছিল তোমার
দিতাম চলার সাথ।
দিনে দিনে বড় হলে
শক্ত হলো হাত
দূর দেশেতে পাড়ি দিলে
ফেলে পিতৃ স্বাদ।
তুমি যখন মত্ত ছিলে
গভীর জ্ঞান অন্বেষণে
আমি তখন রসদ যোগাই
থেকে অনাহারে।
ছেলে আমার বড় হবে
অনেক দূরের পথ
হয় না যেন কোন ক্ষতি
এই ছিল শপথ।
এখন তুমি অনেক বড়
দেশের খ্যাতিমান
তোমার গুণে মুগ্ধ সবাই
বাড়ে দেশের মান।
আমি এখন যষ্ঠি হাতে
বিবশ দেহে চলি
রাতের বেলা নিজ বিছানা
নষ্ট করে ফেলি।
স্বার্থপরের মতো তোমায়
তখন পড়ে মনে
খোকার হাতটি থাকতো যদি
আমার হাতের সনে।

(২)
পাশের বাড়ির নরেণ খুড়ো
আমারই খেলার সাথি
দু’গণ্ডা ছেলে পুলে নিয়ে
মাতে দিবস রাতি।
প্রতিদিনই কলহ আর
নিত্য অভিযোগ
এসব নিয়ে নরেণ খুড়োর
মনে দারুণ ক্ষোভ।
নরেণ আমায় হিংসে করতো
দেখে আমার বাড়া (বাড়ন্ত ভাব)
একটা ছেলেও হলো না তার
বিদ্যে বুদ্ধি ভরা।
মূর্খ তার সন্তানেরে
কে দেবে আহার
এসব নিয়ে সারাদিন
তার যত হাহাকার।
তারা এখন হাসি খুশি
বাবার সাথে আছে
আমি এখন বিবশ দেহে
একলা কাঁদি রাতে।
তারপরেও হার না মানি
ভাবি মনে মন
নাইবা পেলাম মৃত্যুকালে
জলের আস্বাদন
হিম শীতল ঘরে না হয়
রইবো কিছুক্ষণ।
ছেলে আমার আসবে ফিরে
বাবার সৎকারে
কাজ শেষ হলে না হয়
যাবে নিজের ঘরে।
ছেলে আমার মস্ত বড়
দেশ জোড়া তার নাম
সেই খুশিতে জীবন আমার
করে যাবো দান।

(১৮ মে ২০২১, ঢাকা)
ড: তরুণ শিকদার । বাংলাদেশ