মোনালিসার হাসি - প্রদ্যোৎ সেন
অনেক খুঁজেছি তারে
মাঠের ঘাসের থেকে রৌদ্র ঝলমল
নিশীথের তমসার তীরে।
রক্তাপ্লুত পৃথিবীর পথভ্রষ্ট যান্ত্রিক জীবন
মুখ ভার করে অভিমানে,
ব্যথায়, ঘৃণায়।
আরক্ত গোলাপ যখন দল মেলে
অরণ্যের নিঃসঙ্গ নির্জনে
অজস্র কাঁটার ভেতর,
কস্তুরি মৃগের মতো গন্ধে তার হয়েছি মাতাল
তখন খুঁজেছি তারে।
হেঁটে হেঁটে গেছি কতবার কপিলাবস্তুর পথে,
স্বর্ণমৃগ সন্ধানমুখর তাম্রলিপ্তির
পুরুর পৌরুষধন্য বিপাশার তীরে।
যেখানে কখন যেন খসে খসে ঝরেছিল
দু’একটি ধূসর পালক
আঁধার সমুদ্র হতে অন্তহীন বলাকার ঝাঁক
উড়ে উড়ে আসিবার কালে
নিঃশব্দে ডানার থেকে,
সেখানে খুঁজেছি আমি তারে।
শীতের মধ্যাহ্ন শেষে
হলুদের দেশে
সবুজের ঢেউভাঙা দিগন্তের কোলে
বিরহিনী শ্রীরাধার
গৌরকান্তি বাহুর বেষ্টনে
নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে যেথা শ্যাম নটবর
সৌর কুমকুম পরে।
যেখানে ঝরিছে নিত্য অন্য কোনো পৃথিবীর রঙ
যে রঙ দেখেনি কেউ
চিরকাল শুধু খুঁজে ফেরে,
আমি তারে খুঁজেছি সেখানে ব্যথার প্রদীপ দুটি জ্বেলে
মেলেনি সাক্ষাৎ।
কখনো দেখিনি তারে।
একবার দেখেছিলাম মনে হয় যেন -
একটিবারের তরে শুধু মোনালিসা হাসি তার
পশ্চিমের বাতায়ন থেকে।
যেখানে ঝরিতেছিল কোন্ এক পৃথিবীর রঙ
কালের দুর্লভ সীমা মুহূর্তের কোলে।
কখন সে চলে গেছে
দুর্বোধ্য সে হাসিখানি ফেলে –
যে হাসিটি চিরকেলে আমিটার কানে
অনন্তের যাত্রাপথে –
অন্তহীন স্রোতে।
প্রদ্যোৎ সেন। বাংলাদেশ
-
ছড়া ও কবিতা
-
28-12-2021
-
-