নদী – নির্মল ভৌমিক
খেয়াতরী দিয়ে পাড়ি
যেতে হয় আমার বাড়ি
সেথায় আছে নদী,
জলে ডুব দেয় পানকৌড়ি
সারে সারে দুই ধারে বাঁধা রয়
জেলে ডিঙ্গি।
বর্ষার জলে সারাদিন জেলেরা
মাছ ধরে জালে,
শাপলা শালুক আর গাঙ কলা
ভাসে বেশ জলে।
সকাল সন্ধ্যা রাত্তিরে
আঁচড়ে পড়ে স্রোতস্বিনী
বাতাসে ভয়ানক গর্জন তুলে,
ভয় নাই তবুও প্রাণে
বাঁচি হেসেখেলে।
যুগের পর যুগ ধরে
মিতালি মোদের
এই নদী আর নদীর জলে,
এখানে নৌপথে নৌ চলে,নোঙর উঠে
সুখ লাগে প্রাণে।
দিবানিশি বসে বসে ভাবি
এই নদীকূল ঘেঁষে
মৃদু বাতাস আর
নদীর কলকল যাদুময়ী ধ্বনিতে
হবে কি ঠাঁই মরণের পরে?
এই স্বাধের আরজ
রেখে যাই বিধাতার নিকট
প্রাণের প্রতি স্পন্দনে,
পর জনমে নদী করো গো মোরে
উর্বর পলি বয়ে এনে
ফসলের মাঠে যুগাতে আধার
সভ্যতার অবক্ষয় রোধে।
আমি নদীর মতো বয়ে যাবো
আমাতে খেলে যাবে
মীন আর জলজ উদ্ভিদ-কীট
যত আছে।
নারী ও পুরুষ
আমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে
অঙ্গ ভেজাবে,
তাদের তৃষ্ণা মিটাবো আমি
নিজের ভরাট জলে।।
নির্মল ভৌমিক। বাংলাদেশ
-
ছড়া ও কবিতা
-
01-06-2022
-
-