আমার নবীনেরে - শাহ্ বাহাউদ্দীন শিশির
(১)
কতনা বাতি জ্বলে আর কতনা বাতি নেভে,
কেউ কি তা লিখছে বসে গণার খাতা খুলে।
খেয়ালী মনে সাজায় বাগান রংতুলীটি দিয়ে,
রাখে কি তুলে তারই ছবি মনের নয়ন মেলে।
(২)
ঘাস ফড়িং উড়ছিল বিলের কচুরিপনা ফুলে,
বাজ পাখিটা দিচ্ছিল চক্কর দীঘিটার চারদিকে।
কৃষাণী চড়িয়েছিল ভাত আঙ্গিনায় দ্বিপ্রহরে,
কৃষক দিচ্ছিল লাঙ্গল জমিতে বাড়ির ঢালে।
(৩)
কৃষকের জমিতে লাঙ্গল, কৃষাণীর চুলোয় ভাত,
একটা সাধারণ দিন; ঘাস ফড়িং আর বাজপাখি,
চলছিল সব সঠিক গতিতে, সূর্যও ছিলনা থেমে।
হঠাৎ ওঠে ছিল কেঁপে ঢালের জমি, গুলির বর্ষণে,
আর্তনাদে মেতে ছিল মেশিনগান তীব্র চিৎকারে,
এঁকেছিল লাল কৃষকেরই জমি বুকের রক্ত ঢেলে।
(৪)
হালের বলদটা গিয়েছিল পালিয়ে নিজ প্রাণের ভয়ে,
ধূলির সজ্জায় রয়েছিল কৃষক আকাশ-পানে চেয়ে,
মৃত দেহ থেকে রক্ত গড়িয়েছিল ক্ষতের রাস্তা ধরে।
ভয়ার্ত কৃষাণী ছুটেছিল ঢালে; চুলোর আগুন ভুলে,
অসহায় কৃষাণী চিৎকারে ডেকেছিল “কৈ গো তুমি?”,
আবার চলেছিল গুলি, লুটায়ে কৃষাণীরে বধ্যভূমিতে।
(৫)
ক্ষেতের কাজ ফেলে বড় ছেলে নবীন গিয়েছিল যুদ্ধে,
দেশ স্বাধীন করবে বলে।
কৃষাণী বলেছিল “আমাগোর যুদ্ধের কাম নাই,
তুই হাল ধরবি বাবার লগে”।
কৃষক হেসে বলেছিল “নবীন তুই যুদ্ধে যাবি যা,
দেশরে স্বাধীন কইরাই ফিরবি ঘরে”।
(৬)
মুক্তির নেশায়, ছেড়েছিল ঘর নবীন, সকল মায়া ভুলে,
বলেছিল মা স্রষ্টারে “রক্ষে করো ভগবান, আমার নবীনেরে”।
কত তাঁরা জ্বলে আর কত যুগ যায় চলে কিংবদন্তির ইতিহাসে,
কে বা তার রেখেছে হিসেব অনন্ত কালধরে;
———— কিষাণ, কিষাণি আর নবীনেরে।
শাহ্ বাহাউদ্দীন শিশির
অটোয়া, কানাডা।
ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮
-
ছড়া ও কবিতা
-
15-12-2018
-
-