অটোয়া, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৯
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন – কবির চৌধুরী

র মাত্র দুই দিন পরই বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মন্ট্রিয়ল-টরন্টো, লন্ডন-নিউইয়র্ক শহরের মত অটোয়াতে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মিটিং-মিছিল না হলেও নির্বাচনের হাওয়া যে একেবারে বইছে না, তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের শহর অটোয়ার বাংলাদেশীদের মাঝে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অল্পসল্প আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের যোগানদার বাংলাদেশ থেকে প্রচারিত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদ, কথার ফুলজুড়ি ফোটানো বাংলাদেশের সুশীল সমাজের ঝানু ঝানু প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে টকশো, অনলাইন সংবাদপত্র এবং সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেইসবুক। ইতিমধ্যে এতসব মাধ্যমের প্রচার-প্রোপাগাণ্ডা আর নিজের বিবেকবুদ্ধি দ্বারা অনেকেই বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি আর নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করে নিয়েছেন। আমি নিজেও তাদের মত একজন।   

আমরা যদি আজকের বাংলাদেশের অনলাইন পত্রিকাগুলোর হেডলাইন দেখি তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায় আওয়ামী লীগই আগামী সরকার গঠন করবে এবং এই সরকার গঠন হচ্ছে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে। আমার এই আত্মবিশ্বাসের কারণ- আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের দুটো সাক্ষাৎকার। একদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার কথা আর অন্যদিকে ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। আপনারা অনেকেই হয়ত আমার এই উদ্ধ্যত বাক্যটিকে সহজভাবে নিবেন না। মাস দুয়েক আগে শুরু হওয়া ঐক্যফ্রন্ট আর বিএনপি-র লীলাখেলার সময় থেকেই আমি বন্ধুবান্ধবকে বলেছি – ডক্টর কামাল সাহেব জীবনের শেষ বেলায় এসে জীবনের শেষ ভুলটি করলেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারই এর জলজ্যান্ত প্রমাণ।  

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবার নিয়ে পরপর তিন বার সরকার গঠন করবে। যোগ্যতর দল হিসেবেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করবে। গত দশ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের বড় সাফল্য দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশকে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে পৃথিবীর কোন দেশেই গণতন্ত্র আর মানবিকতা একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে- আন্দোলন করতে হয়েছে। গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া। 

দেশ-বিদেশে অনেকেই বিভিন্নভাবে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা বলছেন – লিখছেন। আমার মতে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য বা অবদান 'তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন’-এই গাঁজাখুরি ধারনা থেকে বের হওয়া। এই বের হওয়াটা জাতির জন্য খুব সহজ ছিল না। ভাবতে অবাক লাগে গণতন্ত্রের কথা বলে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে; সমাজের কিছু বিত্তশালী ব্যক্তির কাছে সমাজকে জিম্মি রেখে, একটি নির্বাচন করে গণতন্ত্রের তকমা দিয়ে একটি পুতুল গভর্মেন্ট ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া। কিন্তু শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী চিন্তা আর সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমরা আশা করবো ‘তত্বাবধায়ক সরকার’ নামক দানবের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।  

পরিশেষে বলতে চাই, আমরা প্রবাসীরা বিশ্বের মানচিত্রে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী, গণতান্ত্রিক একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই। এছাড়া আমাদের আশা, নতুন বছরে গঠিতব্য নতুন সরকার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনের জন্যে ‘৭২ সালের সংবিধানকে পুনরুজ্জীবিত করবে।  

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু  
কবির চৌধুরী
অটোয়া, কানাডা।
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮