অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
আমার মা

 আমার মা 
মূল : ডঃ এ পি যে আব্দুল কালাম 
পরমাণু বিজ্ঞানী ও ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি 

ভাষান্তর :    আয়েশা সুলতানা 
                অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ( অবসরপ্রাপ্ত )
                দর্শন বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ 

সাগর তরঙ্গ, স্বর্ণ বালিকণা, তীর্থযাত্রীর মনের বিশ্বাস ধারণকারী রামেশ্বরাম মসজিদের পথ--
এসব মিলিয়ে স্বর্গীয় যে রূপটি -- তাই তো আমার মা !
মাগো, তোমার স্বর্গীয় সুধাময়  হাতের স্পর্শ  সদাই আমায় যত্নে ঘিরে রাখে। 
সংগ্রামমুখর সে দিনগুলোর কথা মনে পড়ে--
দ্বন্দ্ব ও শ্রান্তিভরা সে জীবন --
মাইলের পর মাইল পদব্রজে চলা--সূর্যোদয়ের পূর্বেই --
মন্দিরের পাশে--সাধক সম শিক্ষকের কাছে----
কয়েক মাইল হেঁটে চলতাম আরবী শিক্ষকের স্কুলে--
অতঃপর বালুকাময় পাহাড়ে উঠে স্টেশান রোড--সংবাদপত্র নিতে--
যা বিলি করতাম, বাসিন্দাদের মাঝে-- মন্দিরের সে শহরে !
সূর্যোদয়ের কিছু পরে স্কুলে যাওয়া—
সন্ধ্যায় কর্মমুখর সময় পড়তে বসার আগে—
ছোট সে বালকের এ সব নিত্য কষ্টগুলো, মাগো,
কালে কালে পরিণত হোল আন্তরিক দৃঢ়চিত্ত  এক শক্তিরূপে—
মহাশক্তির কাছে পাঁচবার নত শিরে সবই তুমি চেয়ে নিলে।
তোমার অনড় ভক্তি মাগো, তব সন্তানের শক্তি।
তাকেই  তোমার শ্রেষ্ঠটুকু দিয়েছ—যার বেশী প্রয়োজন
কেবল দাওনি--স্রষ্টার প্রতি অটল বিশ্বাসের সাথেই দিয়েছ। 
মনে পড়ছে সে দিনটির কথা....
-- আমার তখন বছর দশেক!
তোমার কোলে ঘুমিয়ে আছি-বড় ভাই বোনদের ঈর্ষার পাত্র হয়ে! সেদিন ছিল পূর্ণিমার রাত।
শুধু তুমি-ই জানতে আমার পৃথিবী কে , মা-গো আমার মা।
মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে গেল;
চোখের পানিতে হাঁটু ভিজে যাওয়া —
শুধু তুমি জান তোমার সন্তানের বেদনা।
যত্নের আবেশে তুমি হাত বুলিয়ে ব্যথা দূর করেছো ।
তোমার ভালবাসা, শুশ্রূষা, বিশ্বাস আমায় শক্তি যুগিয়েছে।
নির্ভয়ে দাঁড়াতে শিখেছি পৃথিবীর বুকে--শুধু তাঁরই শক্তিতে বলীয়ান হয়ে। 
দেখা হবে মাগো তোমার সাথে --শেষ বিচারের মহান সেই দিনে।

আয়েশা সুলতানা 
                অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ( অবসরপ্রাপ্ত )
                দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।