অটোয়া, রবিবার ৬ এপ্রিল, ২০২৫
কর্কটীয় কবিতা – বজলুস শহীদ

বিতার শরীরে আজ হিংস্র শ্বাপদের 
নখের আঁচড়,
কবিতা তাই আগের মত আকাশ দেখেনা, নক্ষত্রের মত জেগে জেগে পাহারা দেয় না
জোৎস্নার অবিনাশী প্রেম , 
কবিতা আর শীতল করে না রোদে পোড়া
তামাটে বিবর্ণ মাঠ, 
কবিতা আর খুঁজে পায়না ছায়া বৃক্ষ বট, 
নঁকসী কাঁথার মাঠ।
আসাদ, রফিক, শফিক, জব্বার 
কবিতার অতল গহবরে আজ, 
নুর হোসেনর পিঠে আর কবিতা হাসে না।

আমি কবিতার প্রকোষ্ঠের প্রতিটি ছায়ার দিকে তাকাই, কতকগুলো মৃত ফেকাসে চোখ 
কংকাল সার মানুষের হাড়, রঙিন আলোর ফ্রেমে বন্দী, সবাই চেয়ে চেয়ে দেখে 
কালো মুখোশে ঢাকা চোখ, 
ভয়ংকর অচেনা দানব।

কবিতা, তুমি কি আজ ভয়ে ভীত? 
হায়নার দৃষ্টি লোলুপতা দেখে 
তুমি কি মুখ ঢেকে শুয়ে থাক আজ? 
ধর্ষিতা শিশুর লাশ দেখে তুমি কি 
পালিয়ে  যাও  লাশকাটা ঘরে ?
আমার বিবস্ত্র শরীরে চাকু ছুরির উল্লাশ
দেখো আজ! 

তোমার পুঁথির সুরে আজ ঘুমিয়ে গেছে একাত্তর , বেলি ফুল স্নিগ্ধতায় ভেসে যায় বায়ান্নো, কাল 
কালান্তরের বিপ্লবী বারুদ, 
শহীদের রক্তাক্ত লাশ, আজ খেয়ে যায় 
অনাহারী শকুন।

তার চেয়ে কবিতা তুমি বিসুভিয়াসের 
মত জ্বলে উঠো, নজরুল, সুকান্ত ,পাবলো নেরুদার হাত ধরে এসে বলো
জাগহে মানুষ, জাগো,একসাথে জাগো সবে,
নিরন্ন, বারুদে পোড়া শিশুর কাতারে দাঁড়াও তুমি আজ। 

বুকের প্রতিটি ক্ষোভ  উচ্চারিত হোক,
অগ্নিবীণার সুরে বেজে উঠো 
আর একবার
কলঙ্কিত কালিমা ছেড়ে বেরিয়ে এসো, 
হে আমার প্রিয় কবিতা, 
লাল উত্তরীয় উড়ুক সমস্ত আকাশ,
ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে যাক 
পৃথিবীর সমস্ত দুর্গন্ধ লাশ,  
ফিরিয়ে দাও শান্তিময় পৃথিবীর 
গৈরিক আবাস। 

বজলুস শহীদ
অটোয়া, কানাডা।