অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
বৃক্ষ - শম্পা চক্রবর্ত্তী

কটি শিশু হাঁটতে থাকে
দূরান্তের ওই গ্রামে
পথ চলতে থমকে দাঁড়ায়
চোখ পড়ে যায় গাছে।

গাছেরা তোমরা কত যে সবুজ
কত ফুল ফল তোমাদের
আমি ছোটজন
ভাবি সারাক্ষণ
কেন কাটা হয় তোমাদের।

তোমাদের কেটে
তোমাদের মেরে
করে কত আসবাব,
তোমাদের দেখে
হয় মোর মনে
দয়া আর অভিশাপ।

তোমাদের যারা খুন করে ফেলে
চুলোর আগুনে পোড়ায়,
তারা তো জানে না কত কষ্ট
প্রখর রৌদ্র খরায়।

রোদে হেঁটে হেঁটে
ক্লান্ত পথিক
তোমার ছায়ায় বসে।
বুক ভরে নেয় নিঃশ্বাস তারা
তোমারি অক্সিজেনে।

দাদু ঠাকুরমারা গল্প বলেন
শিশুকাল যবে ছিল,
ঔষধ পথ্যি কিচ্ছু ছিল না
তবে কবিরাজ দাদু ছিল।

কবিরাজ দাদু পায়ে হেঁটে হেঁটে
আসত তোমার দ্বারে,
লতাপাতা ও শিকড় সমেত
সোজা চলে যেত ঘরে।

সেই লতা পাতা শিকড় দিয়ে
ঔষধ বানাতো দাদু
সেই ঔষধ খেয়ে দিদিমা আমার
একটু খেতো দুধ মধু।

উপকারের হাতটি বাড়িয়ে
নিজেকে দিচ্ছ বিলিয়ে,
বোকা লোকগুলো তাও বুঝে না 
চলছে তোমায় মাড়িয়ে।

কেটে কেটে বন
করছে প্রাসাদ,
গড়ছে নগরী শহর,
পশুপাখি সব ভয়তে অসাড়
হারিয়ে তারা বিলুপ্ত।

শহরে লোকেরা কত কিছু বলে
বলে নাকি চড়া দাম।
আসলে কি তারা
দিতে পারবে কখনো-
বৃক্ষ তোমার দাম।

শম্পা চক্রবর্ত্তী
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।