অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
একগুচ্ছ কবিতা -এনাম রাজু

প্রচারে প্রসার

চলুন আত্মপ্রচারে নেমে পড়ি
সারি সারি গাছের মতো মাথা তুলে শ্রদ্ধা জানাই
সাময়িক বাতাসের ইচ্ছে মতো...

কবিদের কন্ঠে বলি, লিখি সম্পাদকীয় পাতায়
তর্কে ধুইয়ে দেই বুড়িগঙ্গার ভারী জলে
দালিলীক প্রমাণে দেখাই আমাদের প্রাজ্ঞ আকাশ।

চলুক চেনানোর কৌশল
ছায়াতে বেড়ে উঠা লতার মতো
রোদে পুড়ে লাভ কি বলো ?
তার চেয়ে এই ভালো শর্ট পথে রঙধনু হয়ে
পৃথিবীর চোখে পড়িয়ে দেই রঙিন চশমা। আর-
হুইসেল বাজিয়ে যতটা কব্জা করা যায়
আমার প্রচার-নামের সুনাম।

হয়তো দু’দিন পরে স্মৃতিতে জায়গা হবে না
ভুলে যাবে প্রজন্ম...
অতীতে হারিয়েছে, হারাবে আবার।

চলুন, আত্মপ্রচারে নামি আগাছা হয়ে ঢেকে দেই
লাল শাকের হৃদয়ের রঙ।

একটি সার্টিফিকেটের আত্মকাহিনী

বাবার কাছে চেয়েছিলাম রঙিন ঘুড়ি
বাজার থেকে এনে দিয়েছিলেন লাইব্রেরি
আঁকার খাতা ছিলো না তখন
লেখার খাতায় একেঁছিলাম ঘুড়ির আকাশ
মাথায় ভেঙ্গে পড়েছিলো লাটাই। বুঝেছিলাম-
তিনি আমাকে শিক্ষিত দেখতেই ভালবাসবেন।

মনোযোগী হই পড়ালেখায়
একদিন সার্টিফিকেটের তাপে উষ্ণ হয় বাবার মুখ
মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বনির প্রতাপ।

সনদ অর্জনের পর মন দেই সাহিত্য চর্চায়
হাতে জোর নেই তাই মধুর সুরে বলেছিলা বাবা-
চাকুরী খুঁজতে মন দে,
তোকে পড়াশুনা করে বানাতে চাইনি বাউলা বাতাস।

তারপর, দর কষাকষি করে চাকুরী পাই সরকারি বনে
এখন বন উজাড় করে গড়েছি নগর, গড়েছি স্বর্ণকমল।

আজ স্বপ্ন হারিয়ে স্বপ্নে আঁতকে উঠি বারবার...

কবি

চেয়েছিল কবি নদীর স্বাধীনতা
চেয়েছিল অবারিত স্বপ্নের ঢেউ
চেয়েছিল পাখিদের সবুজ বন
ফুলে ফলে অফুরান।

চেয়েছিল কবি মাছের সাঁতার অথৈই জলে
হবে তার ঘর সংসার
চেয়েছিল নীলিমার নীল ভরা যুবতী আকাশ
চেয়েছিল কালো ভূতের নিঃশ্বাসমুক্ত বাতাসের পরমায়ু

চেয়েছিল কবি বক্তার আসন
সাদা কাগজে কালো অক্ষরের বাকস্বাধীনতা
ইতিহাস পাড়ায় খুঁজে নেবে সততার ডাগর ডাগর সূর্য-চাঁদ
জেনেশুনে পাড়ি দেবে পুলসিরাত।

চেয়েছিল কবি চড়–ই কিবা ময়নাপাখিকে বুঝাতে
বাবুইয়ের কর্মগৌরব সেই সাথে চেয়েছিল কবিতায় যৌবন

চেয়েছিল কবি বিলুপ্ত হউক ভিসা-পাসপোর্ট-প্রাচীর প্রণয়
হিংস্র  জানোয়ারের শরীরে আঁকা মানচিত্রের ছাপ

কবির চাওয়া-পাওয়ার কার কি আসে-যায়
শুধু কষ্টরা কাঁদে অসহায় স্বপ্নের মতো...

পরিত্যক্ত স্টেশন

হিসেবের ডায়েরিটা বন্ধই থাক
তুফান তুলে যার মেঘের সাথে চলা
তাকে তো সময়নিষ্ঠ হতেই হয়। আর-
হতে হয় সময়ের মতো বহুরূপী।

কতোটুকু সময়! কতোটুকুই বা কথা হলো?
দগ্ধ হৃদয়ের উর্বরতা তো একপলকই যথেষ্ঠ...

লালবাক্সে ডাক আসে, পুড়ে যাচ্ছে সবুজ বাতি
হাঁটতে থাকো, নিষ্পলক দেখে যাবো তোমার শেষ
যতোটুতু দেখা যায়। তারপর-
অন্ধকার নামবে, নাগরিক ব্যস্ততা ফুরাবে
হয়তোবা পড়ে রবো ফুটপাত
নয়তো বা পরিত্যক্ত স্টেশন।

যৌথ খামার

তোমার সমকক্ষ নই, তুমিও নও ভারুদত্ত মন
তবে কেনো বাঁধ সেজে করো হা-হুতাশ,
সমুদ্র হয়েও জলকাতর ভিক্ষুক;
আর চরজাগা খা খা বুকে ঢেউয়ের সন্ধান?

ঢেউয়ের সাথে ঢেউয়ের প্রতিযোগীতায়
দু’জনেই সমানে সমান
মিছেমিছি ভেঙ্গে যায় দু’তীরের যৌবন...

যদিও পুলক প্রতিযোগিতায় তুমি
আর ভাবো অক্টোপাস পালক আমি
দোহাই না উড়ে ফিরে এসো বাড়ি
গড়ে তুলি সমঝোতার যৌথ খামার...

এনাম রাজু
ঢাকা, বাংলাদেশ।