অটোয়া, সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯
সাম্প্রতিক সাহিত্যের অনন্য সংযোজন -অপূর্ব শর্মা

মাদের কথাসাহিত্যিকদের বিরুদ্ধে মোটা দাগে একটি অভিযোগ আছে-‘সাময়িক প্রসঙ্গ’ নিয়ে তারা খুব একটা লিখেন না? হয় অতীত না হয় কল্পনার সাগর সাতরে বেড়ান তারা। সত্যিই কি তাই? এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি দাঁড় করানো যাবে। কিন্তু হচ্ছে না এ কথাটা ঠিক নয়; অবশ্যই হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে তুলনামূলক বেশিই হচ্ছে। তরুণ লেখকদের পাশাপাশি প্রথম সারির লেখকরাও এখন বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমসাময়িক ঘটনাগুলোকে বিবেচনায় আনছেন। মোহিত কামালের ‘সুস্মিতার বাড়ি ফেরা’ এ ধারারই উপন্যাস। প্রযুক্তির অপব্যবহারে একটি মেয়ের জীবন কিভাবে বিপন্ন হয়ে ওঠে তারই আখ্যান লেখক তুলে ধরেছেন আলোচ্য উপন্যাসে। সাইবার ক্রাইম যে একটি পরিবারের স্বাভাবিকতা বিনষ্ট করতে পারে, ধ্বংসের প্রান্থে নিয়ে যেতে পারে তারই কথকতা লেখক ‘সুস্মিতার বাড়ি ফেরা’য় চিত্রিত করেছেন অত্যন্ত দক্ষতায়, গভীর নিষ্ঠায়। এ উপন্যাসে শুধু সময়ের নিদারুনতাই ওঠে আসেনি ওঠে এসেছে সমাজের ঘুণে ধরা একটি অংশের চিত্র। যারা দাঁড়িয়ে আছে অপরাধের চোরাবালিতে!  

মুদ্রার যেমন এপিট-ওপিট আছে, প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও তাই। আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের জীবন চলার পথকে যেমন সহজ করেছে, তেমনই করেছে গতিশীল। প্রযুক্তির কল্যানে আজ অনেক কিছুই মানুষের হাতের নাগালে। আধুনিকতার এই আশির্বাদ কখনও কখনও অভিশাপ হয়ে ওঠে। এই অভিশপ্ততা একটি পরিবারকে কিভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলতে পারে তারই অনুপঙ্খ বিশ্লেষনে ভাস্মর হয়ে ওঠেছে উপন্যাসের ক্যানভাস। সাধারণত প্রেম, রোমান্স, রহস্য, সাসপেন্স দিয়েই সাজানো হয় উপন্যাসের অবয়ব। কিন্তু ‘সুস্মিতার বাড়ি ফেরা’য় প্রেম নেই, আছে বাস্তবতা; রূমান্স নেই আছে বিষন্নতা। সমস্যাসংকূল জীবনের প্রতিচ্ছবিকেই প্রতিভাত করে তুলেছেন মোহিত কামাল। মননবিশ্বের এই চিকিৎসক সামাজিকব্যাধি সনাক্ত করেছেন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। 

মোবাইল ফোন বর্তমান সময়ে মানুষের পথচলার অন্যতম অনুসঙ্গ। কথা বলা থেকে শুরু করে, গান শোনা, ভিডিও ধারন, ছবি তোলা-এমন হরেক কাজ করা যায় মুঠোফোন দিয়ে। নিমিশেই প্রবেশ করা যায় ইন্টারনেট দুনিয়ায়। ফেসবুক টুইটারসহ অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে তাৎক্ষনিকভাবে ওঠা ছবি কিংবা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া যায় বিশ্বময়। ভালোকিছুর আপলোড যেভাবে রাতারাতি স্টার বানাতে পারে কাউকে তেমনি মন্দ কিছু নিয়ে যেতে  পারে ধ্বংসের দাড়প্রান্থে। আর এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দেশব্যাপি গড়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। এই চক্র নারীদেরকে টার্গেট করে তৈরি করছে ফাঁদ। তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে অনেকে বিপন্ন করছে নিজেদের জীবন, হারাচ্ছে সর্বস্ব। এরকম একটি পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে আলোচ্য গ্রন্থের প্রধান চরিত্র সুস্মিতার জীবন। বর্তমান সময়ে বাগদানের পর স্বাভাবিকভাবেই ছেলে মেয়েরা নিজেদের মধ্যে অন্তরঙ্গতা বা হৃদ্যতা বাড়ানোর প্রয়াস চালায়। একসময় পারিবারিকভাবে হবু বর ও কনের মেলামেশায় বিধি নিষেধ থাকলেও এখন তা নেই বললেই চলে। সারাজীবনের জন্য গাটছড়া বাধতে যাওয়ার আগে পাত্র-পাত্রী নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময় করে জীবনসাথীর কাছাকাছি আসতে চায়। সময়বাস্তবতায় এটাই স্বাভাবিক। সুস্মিতার ক্ষেত্রেও ঘটে তেমনটি। রাজীব নামের সুদর্শন যুবকের সাথে তার বাগদান সম্পন্ন হওয়ার পর একদিন সে তাদের বাসায় এসে সুস্মিতাকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে। মায়ের সম্মতিতেই রাজীবের সঙ্গে বেড়াতে যায় সুস্মিতা। কিন্তু সেই ভ্রমন কাল হয়ে দাড়ায় তার জীবনে। অপ্রত্যাশিত ঝড়ের মত তছনছ হয়ে যায় সবকিছু। মোবাইল ফোনে ওঠা অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি ফটোশপের বদৌলতে সুপার ইম্পোজ করে অশ্লীল ছবিতে রূপান্তর করে রাজীব। পরদিন সুস্মিতাদের বাড়ি এসে তার ‘চরিত্র খারাপ’ বলে অভিযোগ উত্থাপন করে। কারসাজির ছবিগুলো সে সুস্মিতার মা সুমি রহমানকে দেখায়। এমন ছবি দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ১০ লক্ষ টাকা না দিলে এডিটেড ভিডিও এবং ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। সামনাসামনি রাজীবের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সুস্মিতা পায়ের জুতা খুলে রাজীবকে অঘাত করে। তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে উল্টো মা মেয়েকে শাসাতে থাকে সে। এই পর্যায়ে ঘরে প্রবেশ করে সুস্মিতার ভাই সোহান। ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে দেয়ালের পাশে রাখা ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে রাজীবকে তাড়া করলে পালিয়ে যায় সে। পরদিনই রাজীব সুস্মিতার এডিটেড ন্যুড ছবি ছড়িয়ে দেয় ইন্টারনেটে। সুস্মিতার জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। ভার্সিটি থেকে শুরু করে পাড়া-সর্বত্রই আলোচিত হতে থাকে ঘটনাটি। মুহুর্তেই ‘খারাপ’ মেয়ের তকমা জুড়ে যায় সুস্মিতার নামের সঙ্গে। কিন্তু সুস্মিতার ঘনিষ্টজনেরা বিষয়টি অবগত হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে সহপাঠিরা তার পাশে এসে দাঁড়ায়। তারা বিষয়টি নিয়ে ভার্সিটির শিক্ষিকা সায়ন্তনী ম্যামের সঙ্গে পরামর্শ করে। তারই নির্দেশনায় র‌্যাব ও বিটিআরসির সংশ্লিস্ট শাখায় তারা অভিযোগ করে। অন্যদিকে সুস্মিতার বাবার বন্ধু হায়দার আলী, সোহানের দুই বন্ধু পূর্নেন্দু এবং নিলয়ও তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। একদিকে অপপ্রচার অন্যদিকে শুভবুদ্ধি সম্পন্নদের পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রচেষ্টা, দুয়ের মধ্যে জটিল এক আবহ তৈরি হয়। সুস্মিতা যেন কোনওভাবেই ভেঙে না পড়ে, চাপে পড়ে ভুল কিছু না করে বসে সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে সবাই। তার মনোবল চাঙা রাখতে সহপাটি ঝুমকি তাকে সঙ্গ দেয়। কিন্তু ঝুমকিকে ‘নষ্টা’ মেয়ে এবং হায়দার আলীকে দালাল বলে অপবাদ দিতেও কুন্ঠিত হয়না রাজুসহ স্থানীয় অপরাধীরা। তারা উদ্ভুত পরিস্থিতির ফায়দা লুটতে তৎপর হয়ে ওঠে। উপরি আয়ের ধান্ধায় একাধিকবার হায়দার আলীকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেয় তারা। এতে কোন কাজ না হওয়ায় সুস্মিতার অশ্লীল ছবি দিয়ে পোষ্টার ছাপিয়ে সেটা দেয়ালে সাটায়। এই অপকর্মে তাদেরকে ইন্ধন যোগায় রাজীব চক্র। এ দৃশ্য দেখে হার্ট এটাক করেন সুস্মিতার বাবা রাশেদ রহমান। একপাশ অবশ হয়ে যায় তার।

রাজু বাহিনীর জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার কমিশনারের কাছে তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করতে যান হায়দার আলী ও অন্যান্যরা। কারন তার আশ্রয়ে প্রশ্রয়েই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে রাজু ও তার সহযোগিরা। তিনি সেটা ঘুর্ণাক্ষরেও টের পাননি। হায়দার আলী, সোহান ও পূর্নেন্দুর কাছ থেকে রাজু সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরে কমিশনার তার বাড়িতে পৌছান। রাজুর বাবা মায়ের আকুতিভরা আর্তনাদে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তিনি। নিজেকে নিজেই দাঁড় করান কাঠগড়ায়। কমিশনার যখন বুঝতে পারেন বিষয়টি তখন অনেক দূর গড়িয়ে গেছে জল। 

সুস্মিতার ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে রাজীব চক্রের একজনকে গ্রেফতার করে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার কাছ থেকেই সুস্মিতাকে ব্ল্যাক মেইলে করার আদ্যপান্ত অবগত হয় প্রশসান। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সুস্মিতার ঘটনাটি ফলাও করে পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় পাড়ার লোকজনের ভুল ভাঙে। সুস্মিতার পরিবারের কাছে এই সংবাদটি হয়ে উঠে ভাবমূর্তি পুণরুদ্ধাদের দলিল। পাড়ার যুবকরা এগিয়ে এসে সংবাদটি ফটোকপি করে দেয়ালে দেয়ালে লাগায়। এই পর্যায়ে র‌্যাবের হাতে আটক হয় মূল আসামী রাজীব। স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে সবাই। কিন্তু একটি অস্বস্থিকর খবর সোহানকে বিষন্ন করে তোলে। আসন্ন টুর্নামেন্টের জন্য ঘোষিত দলে ভালো খেলোয়াড় হওয়া সত্বেও শুধুমাত্র মনোসংযোগে ভাটার দোহাই দিয়ে কোচ দলে রাখেননি তাকে। স্থানীয় ক্রিকেট দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনা সে। তখনই ঘটে সবচেয়ে বড় অঘটন। কমিশনারের কাছে অভিযোগের বদলা নিতে হায়দার আলী এবং সোহানকে কিডন্যাপ করে রাজু। সেই সাথে নিজের বাবাকেও সে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যখন হায়দার আলী ও সোহানের খোঁজে পায় ততক্ষনে সব শেষ। লাশকাটা ঘরে পড়ে থাকে তাদের নিথর দেহ।   

উপন্যাসে অনেকগুলো চরিত্রের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। তবে একটি চরিত্র একেবারেই ভিন্ন। হায়দার আলীর প্রতিবাদ, প্রতিরোধে বিস্মৃত না হয়ে পারা যায়না। দৃঢ়চেতা হায়দার আলীর ভূমিকা বিপদগ্রস্থ পরিবারটিকে শুধু ভরসা কিংবা সাহসই যোগায়নি দিয়েছে প্রেরণাও। দুস্কৃতিকারীদের হুমকি উপেক্ষা করে তিনি পাশে থেকেছেন সুস্মিতাদের। এমনকি তার দিকে পিস্তল তাক করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালাতে উদ্যোত হলেও তিনি থেকেছেন নির্বিকার। বলেছেন, ‘আমাকে হত্যা করে পার পাবেনা তোমরা।’ সুপার ইম্পোজের মাধ্যমে বানানো সুস্মিতার অশ্লীল পোস্টার দেয়ালে টাঙানো দেখে রাশেদ রহমান হার্ট অ্যাটাক করলেও কাটারি হাতে পোষ্টার খুলেছেন আলী। বারডেমে মৃত্যুশয্যায় থাকা বন্ধু জীবন ফিরে পাবে এ বিশ্বাস থেকে সুস্মিতার সম্মান রক্ষা করতে পথে নামেন তিনি। হায়দার আলীকে দিয়েই লেখক ব্যক্তির সামাজিক দায়ের বিষয়টি মনে করিয়ে দিলেন আরেকবার।  

দুটি প্রাণ বলি, একজনের পঙ্গুত্ববরণ, একটি ঘটনাকে আবর্তিত করে এমন পরিস্থিতি-এ যেন বর্তমান সময়েরই প্রতিচ্ছবি। যা অন্ধকারে ডুবে যাওয়া কতিপয় মানুষের। একটি অপরাধ কিভাবে আরেকটি অপরাধের জন্ম দেয় তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন লেখক। উপন্যাস পাঠ শেষে অনেকগুলো প্রশ্ন ভীড় করে আমাদের মনে, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি আরেকটু সচেষ্ট হত; তারা যদি গ্রেফতার করতে সক্ষম হত রাজুকে তাহলে অকালেই ঝড়ে যেতনা হায়দার আলী কিংবা সোহানের প্রাণ। সমাজের মানুষ যদি আরেকটু সচেতন হত, ঐক্যবদ্ধ হত, তাহলে রাজু ও তার সহযোগিরা এতবড় ঘটনা ঘটানোর সাহস পেতনা কিংবা কমিশনারকে বলার পর কমিশনার যদি রাজুকে পুলিশের হাতে তুলে দিতেন তাহলে সংগঠিত হতোনা জোড়া খুন- এমন অসংখ্য যদি  ভেসে ওঠে আমাদের মনের পর্দায়। 

স্বাভাবিকভাবে দেখলে, উপন্যাসের কাহিনীকে একেবারেই সাদামাটা মনে হবে। আসলে সরল রেখায় আঁকা হয়েছে এর ক্যানভাস। এই সরল মানে তরল নয় আবার সহজও নয়। সাবলীলতায় আঁকা। সমাজবাস্তবতার জটিলতাকেই লেখক তুলে ধরেছেন সুস্মিতার কাহিনীকে আবর্তিত করে। সুস্মিতা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীই নয়, এমন অসংখ্য ছাত্রীর প্রতিনিধি যারা সরল বিশ্বাসে ফেসবুক, ওয়াটসঅ্যাপ, ভাইভার, টুইটারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে বিপন্ন করছে নিজেদের জীবন। প্রতারকচক্র মিথ্যে সম্পর্ক তৈরি করে কৌশলে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও কিংবা ছবি তৈরি করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কামাই করে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনও উপায়ন্তর না দেখে লোকলজ্জার হাত থেকে রেহাই পেতে কেউ কেউ বেছে নিচ্ছে আত্মহননের পথ। অথচ অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে। এ ধরনের অপরাধের শিকার যে শুধু নারীরাই হচ্ছেন তা কিন্তু নয়, উল্টোটিও ঘটছে। যা অনেক ক্ষেত্রে থেকে যাচ্ছে লোকচক্ষুর অন্তরালে। তবে, লেখক সুস্মিতার কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাঠকদের কাছে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার নির্দেশনাও দিয়েছেন। যা পাঠককে শুধু সচেতন হতেই সাহায্য করবে না, সাহসও যোগাবে অবলীলায়। এ কথা অনস্বীকার্য্য যে, সস্তা জনপ্রিয়তার অভিষ্পা থেকে তিনি এ উপন্যাস লিখেন নি। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই লিখেছেন। এরই মাধ্যমে তিনি সামাজিক অসুস্থতা নিরাময়ের দাবিটিও উত্থাপন করেছেন জোরালোভাবে। যা আমাদেরকে সামাজিক দায়বোধের প্রতি যত্নশীল হতে নির্দেশনা দেয়। পথ দেখায় সুন্দরের। ভাবায় এবং চিন্তার ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করে। 

সহজকথায় সাবলীলভাবে লেখা এ উপন্যাস পড়তে পড়তে মনে হয় গতদিনের ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করছি, যা ছবির মতো ভেসে উঠে আমাদের চোখের সামনে। একজন ঔপন্যাসিক তখনই স্বার্থক যখন তার রচনা আমাদেরকে আবিষ্ট করতে সক্ষম হয়; মনে হয় বর্ণিত চরিত্রটি জীবন্ত। আর ঘটনাটিকে মনে হয় বাস্তব। পাঠকালে মনে হবে আমরা প্রত্যক্ষ করছি তা। ‘সুস্মিতার বাড়ি ফেরা’কে অনায়াসেই সেই দলে ফেলা যায়। লেখক হিসেবে এখানেই মোহিত কামালের সার্থকতা। 

অপূর্ব শর্মা 
সিলেট । বাংলাদেশ