চাঁদমারি বনে জোসনার প্লাবনে - মানিক বৈরাগী
১
বেলাজ জোসনা
যতই হাত ছানি দিয়ে ডাকো, ঢেউ তুলো সমুদ্রে ও শোণিতে
চাঁদ তোর কলঙ্ক জানে জনে জনে, শুধু তোর বিরহ জানে না
অনুভূতি,নুনুভূতি কিছুই নেই,কেন তোর কলঙ্ক রটায় লোকে
ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে রুটি বানিয়ে খায় সুকান্ত
যমুনার জলে বজরায় লিলায় মেতেছিল গুরুদেব
কানু রাধার আশে বাঁশি বাজায় বৃন্দাবনে জোসনা রাতে
প্রিয়ার বিরহে সুরবাঁধে গঙ্গা ধারে জোসনা পহরে
ও চাঁদ তুই কি জানিস আমার কলঙ্ক কোথায়
চোখে চোখ রেখে মুখের সাথে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে
সত্য ও ন্যায়ের তরে তর্জনী উচিয়ে বলি তুই রাজাকার
নবী ও রাসুলে বিশ্বাসি সুফির জলসায় গীত গাই সর্বেশ্বরের
একাত্তরের প্রাণপণ যুদ্ধে ভাই লড়েছে হানাদারের বিরুদ্ধে
এমনি জোসনা পহর রাইতে চাঁদের আগুনে জ্বালিয়ে দেয় ঘর
মুজিবের নামে মুক্তিযুদ্ধ, লেনিন মার্কসের জ্ঞানে সমাজতন্ত্র
স্বপ্ন দেখা মানুষেরা জোসনার রুপ যৌবনে বিভক্ত বিভ্রান্ত
চন্দ্রাবতীর নীড়ে ছাতিম ফুলের ঘ্রাণে ও চাঁদ ডেকো না
ওখানে সাপ বেজি খেলা করে,রাজ গোকুরো বাৎসায়নে মজে
নারকেল জিঞ্জিরার দ্বীপজলে সর্পিল ঢেউয়ে ,কেয়াবনে,বালুতটে
উচ্ছল উজ্জ্বল নগ্নরুপে একাকিনী শুয়ে থাকে সবিতা চাকমা
জোসনা প্লাবনে শরাবনতহুরা সাথে লয়ে ডেকো তবে
"আমি কুলহারা কলঙ্কিনী "
"কলঙ্ক আমার ভালো লাগে"
কলঙ্কের দায় নিয়ে সীতার পাশে মরমে মরমে পুড়ে রাবণ
চেতনা প্রেরণার জামানায় মধুচুষা মজনুরা ভিড় জমায়
সৈকতের রকে হই হুল্লোড় করে জোসনার মধুচক্রে
রুপাগুন পুড়ে বালুতট ধরে নিরবে প্রস্থান করি কলঙ্কলয়ে
মায়া মরিচিকা বালুচিকায় জোসনার ঝড়ো বাতাসে জ্বলে উঠে
একাত্তরের পোড়া ঘাহ,প্রদাহে
দরিয়ার জলে জ্বলে চেতন জোসনায় ফসফরাসের আগুন
আমি সমুদ্রের বিদির্ণ প্রান্তরে ফতুর হওয়া প্রেমের ঢেউ গুনি
একা একদম একা চুপচাপ।
১৪কার্তিক১৪২৩
জোসনা প্লাবিত কামিনি
২টা২৩যামিনি
২
বেদন ফুল
কামিনীর কাছেই দেখেছি সুন্দরের বিভৎস রুপ
কামিনীর কাছেই সমর্পণ করেছি আমার সর্বস্বত্তা
রাতের দরোজা-জানালার সকল কপাট খোলে দি
যুদ্ধংদেহী গতিলয়ে আসে জোসনা প্লাবিত কামিনী
কামনা কাতর লীলা-লাস্যে অস্থির শয্যায় চন্দ্রাবতী
চন্দ্রাবতীর তির্যকযোনি রসের তীব্রতাই চন্দ্রজ্যোতি
চন্দ্রাবতীর মাতাল জোসনা ঝড়ে অবগাহনে অংকুরিত
রজনী ও কামিনীর যন্ত্রণা উৎসারিত সুভাষিত বেদনফুল
৩০কার্তিক ১৪২৬
৩
ক্যাকটাস
বেদনা উৎসারিত ক্যাক্টাস ফুলের মৌতাতে কবিতার বিজ বুনি
হৃদয় বিষাদে চাঁদমারি বনে
কেয়াফলের রসে টলোমলো আঁখিতে আঁকি বেদন ফুলের বিষন্ন স্কেচ
জোসনা প্লাবিত ঝাউবনের আড়ালে
কেউ কেউ শুয়েই থাকে আরামে অবসাদে
বেদন ফুলের চিকচিক রুপে চন্দ্রাবতীর কিরণে বিকিরণে জ্বলে ওঠে বিষন্নতার মরু পাঠ
কেয়াবনের আড়ালে গোঙানির শীৎকার ভাসে জোসনার নাচনে
হেমন্তের মৃদুলা বাতাসে তালের রসে মজে গেয়ে ওঠে মুসাফির
"আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে"
৩০কার্তিক ১৪২৬
৪
বেদন ভ্রুণ
চাঁদমারি বনে চমৎকার পানসে জীবনও অপূর্ব হয় দুচোয়ানীর চুমুকে
যামিনীর যবনিকা লগ্নে জীবন মরুর ঘোলাটে চোখে ধুধু বালুচর হোক পুষ্পিত উদ্যান
ভাটফুল হাতে মারমেইড আসে ক্ষতবেদনের জমিনে হৃতযৌবনে
জস উঠে থিরথির কাপে অপার আনন্দের স্বর্গসুখে
শত বছরের শ্রম সাধানায় সমুদ্র তারার বুকে শোভা পায়
বেদন ভ্রুণের কলি।
৩০কার্তিক ১৪২৬
১৫নভেম্বর ০১৯
সমুদ্র তট, কক্সবাজার
বাংলাদেশ।
-
ছড়া ও কবিতা
-
18-11-2019
-
-