অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
অন্য সুর অন্য তাল - বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত (শ্রীসেন)

ট্রেন ধরার জন্য অপেক্ষা করছিলাম - 
অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার, করণিক কিংবা... 

এমন সময় গেল গেল রব তুলে 
কারা যেন চেঁচিয়ে উঠল 
নিজের জায়গা থেকে একচুলও না সরে 
আমরা সবাই কৌতূহলের দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম 
কি ঘটেছে জানার জন্য ছটফট করছিলাম 
সামনে এগোতে ভয় করে যে-
পাছে দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে 

হঠাৎ দেখলাম - পাড়ার পঞ্চা আর কালুকে! 
একটা রক্তাক্ত দেহ পাঁজাকোলে করে ওরা নিয়েআসছে

এবার আমরা অনেকেই এগিয়ে গেলাম 
এখন আমাদের ভয় কী-পঞ্চারা আছে যে
অথচ পাড়ায় সবাই ওদের মনে মনে গাল দেয় 
পড়া নেই, লেখা নেই, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার  
কোন তাগিদ নেই ; রাতদিন কেবল 
আড্ডা আর আড্ডা 
মনে মনে সবাই ওদের ঘেন্না করে, ভয়ও পায়

আচম্বিতে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনা
আমার অহংকারী মনকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়ে গেল
বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান এই ছেলেগুলোর জন্য
আমার এতদিনের পলকা অনুভূতি 
এক অন্য সুর অন্য তালে নেচে উঠল

অবশেষে আমিও গিয়ে দাঁড়ালাম ওদের পাশে
শেষমেষ লোকটিকে ওরা বাঁচিয়ে তুলল

কিছু একটা করতে পারার আনন্দে-
ওদের চোখেমুখে ফুটে ওঠা প্রত্যয়ী জিজ্ঞাসা
আমাকে নিয়ে গেল অন্যতর এক বোধের ঘরে

দরজা খুলতেই দেখি-
কালু আর পঞ্চার মত 
অজস্র মুখ
ওদের চোখে জল 

ওরা নাকি মানুষ হতে পারেনি!

পেছন ফিরে মুখোশহীন আকাশের দিকে তাকিয়ে
মনে হল-
মানুষ! আমি নিজেও কতটা বা মানুষ।

অবশ্য দু'টো হাত, দু'টো পা আমার আছে
ঠিক মানুষের মতন!

বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত (শ্রীসেন) 
কোলকাতা, ভারত