অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
দেবে কি উত্তর -দেওয়ান সেলিম চৌধুরী

পৃথিবীতে বিজ্ঞান ছিলোনা তখনো,
অন্ধকারে ঢাকা ছিল একটা সময়
মানুষের মাঝে ছিল অজানারে ভয়।
রোগ, শোক, মহামারী সাথে হিংস্র থাবা
জীবনের সব মানে তুচ্ছ করে শুধু বেঁচে থাকা
রাতের অন্ধকারে পর্বত শিখরে কিংবা নির্জন গুহায়
শিশু কোলে মাতৃ স্নেহ ছিল অসহায়।

জীবনকে বিপন্ন ভেবে,অসহায় প্রাণ
সূর্যের উদয় লাগি, সূর্যকেই মানে ভগবান।
মানুষ যেখানে দেখেছে শক্তি, করেছে ভক্তি
দিয়েছে অর্ঘ্য থালা।
সব দেবতারে বরণ করিয়া পড়ায়েছে ফুলমালা
এই করে করে পৃথিবীর প্রতি ঘরে ঘরে
হলো দেবতার জয়।
মানুষ শক্তি পেলো, কেটে গেলো ভয়।
এত কিছু দেখে বুঝি হলো অভিলাশ
মানুষের মাঝে তুমি করিবে প্রকাশ
তাই, পৃথিবীর সব প্রান্ত ভুলি
আরব সাগর তীরে, মহামানবের ভীড়ে
রাখিলে চরণো ধূলি।
বেছে নিলে পাশাপাশি, ভিন্ন ভাষী, কিছু মহাপ্রাণ
তাদেরই হাত দিয়ে করে গেলে দান,
সৃষ্টির আদি হতে লিখে রাখা তোমার বাণী

কাউকে লিখিতভাবে, কাউকে করে কানাকানি।
সাধারন মানুষ তার কিছুই না জানে
শুধু শাস্ত্র সবার বড় এইটুকু মানে।
ধর্মের ভিন্নতায়, অর্থের প্রভেদ
একি শাস্ত্রে পূণ্য যাহা, অন্যশাস্ত্রে নিষেধ।
কাউকে বলেছ করনা হত্যা, জীবন মূল্যবান
আবার কাউকে বলেছ, দু’চোখ বুঁজে করো জান কোরবান।
মানুষের মাঝে, তোমার কাছে, কেউ হলো সন্মানী
কিছু মানুষ রয়ে গেলো যেন নিকৃষ্ট প্রানী।
মানুষকে বলিছ তুমি, ডাকিতে তোমায়
দিয়েছো ভিন্ন পথ—ভিন্ন সব উপায়।
সব কিছু পিছে ফেলে, ধর্মের হীনতাভুলে
তোমায় বসাইল পুন্যাসনে, হৃদয় দুয়ার খুলে।
ডাকিছে দিবানিশি, তোমাকে রাখিতে খুশি
নিজের যাতনা ভুলে।
হঠাৎ প্রশ্ন এলো হৃদয়ের মাঝে
কেনো তুমি সেজে আছ এত বিচিত্র সাজে
তুমিই যদি হও একমাত্র মানুষের ঈশ্বর হে শক্তিবান
তবে কেন ধরে আছ এত বিচিত্র নাম
কেন এত লীলাখেলা, এত বিচিত্র বেশ
কেন মানুষের মাঝে দিলে বিদ্বেষের রেশ?
যদি কোনদিন অগনিত মানুষের সাথে
তব দেখা হয়, বিচারকের ন্যায় দন্ড হাতে
কি সাজে সাজিবে সেদিন, দেবে কি উত্তর 
নীরব থেকোনা তুমি, মানুষের মহামান্য ভীতির ঈশ্বর?

দেওয়ান সেলিম চৌধুরী । অটোয়া, কানাডা