বজ্রপাত - নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
আকাশের মুখ ভার করে বৃষ্টি হওয়া দেখেছি
কালবৈশাখীর ঝড়ের সাথে,
কখনও আষাঢ়, শ্রাবণ, শরতে, হেমন্তে;
শিল কুড়িয়েছি, আনন্দের বান ডেকেছে
তবু বজ্রপাত আমি কখনো দেখিনি--
দেখেছিলাম সেদিন;
যেদিন আমার ভারী হয়ে যাওয়া আকাশে
হঠাৎ করে বৃষ্টিপাতের উপর পরোয়ানা নেমে এলো ;
সবটুকু জমে থাকা ব্যাথার মেঘে,
তখন মনের আকাশ, পাথর হতে চায় --
বৃষ্টি আর হবেনা, আমার সেই মেঘে -।
হঠাৎ বজ্রপাত!
চারিদিকে আলোর ঝলকানি,
হৃদয়ের সবটুকু পুড়িয়ে,
সে তখন আর নিজের মধ্যে নেই,
সব কথা, সব ব্যথা নেমে এসেছে মাটিতে,
আর কোন ভার নেই,
আর কোন যন্ত্রণা নেই,
সব কথা, সব ব্যথা, ভালবাসায় উজাড় করে দিয়ে,
বজ্র হয়ে নেমে এসেছে -
নীরবে, কোন নালিশ না করে,
কোন দরবার না করে,
কোন আবেদন না করে -
একটা নতুন কাহিনী লেখা হল,
নতুন পংক্তি লেখা হল, আমার নতুন গানে,
যে কথাগুলি এতবছরেও লিখে উঠতে পারিনি
খাতার পর খাতা লেখা হয়ে গেছে,
সোনার কলম এসেছে, তাও হয়নি সে লেখা,
খুঁজে পাইনি সে শব্দমালা ;
আজ বজ্রপাতের পরে, ভাঙ্গা, পুরানো কলমেই
সেই লাইন গুলো লেখা হয়ে গেলো,
হঠাৎ আলোর ঝলকানি দিয়ে,
বজ্রপাতের মতো।।
নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
কোলকাতা, ভারত
-
ছড়া ও কবিতা
-
14-01-2020
-
-