অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
এম ডি আজাদের দু’টি কবিতা

ঝড়া পাতার গান
দেখলাম কত স্বপন রংগীন, 
আকাশ-পবন মাঝে-
সাংগ হলো সবই যে তা,
এক ফাগুনের সাঁঝে!
জীবন যে মোর অনেক ছোট, 
ভাবিনি তা আগে,
ফুরিয়ে সময় নতুন করে,
বাঁচার ইচ্ছা জাগে! 
সবই আমার পরের তরে,
আমার আমি নই-
মরনকালে সাথে আমার,
কে আর থাকে কই? 
গরম রোদে, বর্ষাকালে ,
কত পথিক এসে,
একটু সুখের স্পর্শে তারা,
থাকতো গায়ে ঘেঁষে! 
এখন আমার যাবার সময়,
পথিক গেল কই?
পরের জন্য বাঁচা-মরন,
নিজের জন্য নই! 
কালকে যারা নিজের লাগি,
থাকতো গায়ে ঘেঁষে, 
আজকে তারাই পায়ের তলে,
আমায় মারে পিষে! 
উপকারীর কপাল মন্দ,
বরাবরই হয় -
অভাগী যে, তার ভাগ্যে কি,
ভালো কিছু সয়? 

বেলাশেষের গান
অনেক কিছু করার ছিলো, 
আছে অনেক বাকী, 
কোনটা ছেড়ে কোনটা করি?
কোনটা বাকী রাখি? 
নদীর স্রোতে সময় গেলো, 
গেলো বিকেল, সাঁঝ-
অনেক কাজের ভিড়ে করা,
হয়নি আসল কাজ!
অনেক গানই হলো গাওয়া, 
ভাঁটিয়ালি, পল্লী গীতি-
থাকতে সময় মানলে না তো,
কোন নিয়ম নীতি!
ভোরের গজল রাতগভীরে,
লাগে কি আর ভালো? 
সময় মতো চিনলে না তো,
কোনটা সাদা-কালো! 
হুজুগে মেতে চললে যে পথ,
দেখনি খানা-খন্দ,
শেষ সময়ে কপাল চাপড়ে,
বলছো ভাগ্য মন্দ! 
আঁধার রাতে বাতি ছাড়া, 
চললে একা একা, 
হোঁচট তোমার খেতেই হবে, 
হবেনা সৌভাগ্য দেখা!
সময় থাকতে, সময়ের কাজ,
সেরে নিও তাই-
ফুড়ালে সময় দীর্ঘশ্বাসে,
লাভ তো কিছু নাই! 

এম ডি আজাদ । ঢাকা, বাংলাদেশ