হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় এর কবিতা
এপিটাফের বিরুদ্ধে এপিটাফ
গগনচুম্বী সৌধের আড়ালে আমাদের গোপন ইচ্ছেগুলি আমলকি বন হয়ে গেছে কবেই
মরণকাতর পরীদের নক্ষত্র নীল চোখ যেদিন
দেখেছি, সেদিন থেকেই ডুয়ার্সের হাওয়াবাতাস
ভারী হয়ে আছে, পাখিদের সাথে বসবাস করতে
করতে তিস্তার খরস্রোতে এসে মিশেছি
এখন ঝোড়ো হাওয়া উঠলেই মনে হয় কাছে পিঠে কোথাও সমুদ্র উপকূলীয় প্রেমের দেবীরা
জেনারেলি নীল আকাশ জুড়ে ঘুরে বেড়ায়
কিন্তু কীসের খেয়ালে সেদিন তোর্সা আর রায়ডাক হয়ে কেন যেন নেমে এসেছিল এই
পাহাড়ি উপত্যকায়, তা এখনো সংগোপনে রয়ে
গেল, যদিও আদিবাসী রমণীদের মসৃণ ত্বকে
পুঞ্জীভূত মেঘ আদর করে যায় এখনো পরাণসাগরতীরে ,হাজার হাজার বছর আগের এই সব এপিটাফ লেখা বড়োই কঠিন
এপিটাফের বিরুদ্ধে এপিটাফ লিখতে
জীবনানন্দ দাশ ও পারেন নি...
বিদ্যার সাগর তুমি
সূর্যের তেজ বায়ুর গতি চন্দ্রের কিরণ
তোমার লড়াইয়ের এককণা
যদি ভর করতো আমাদের শরীরে
গ্রাম থেকে কীভাবে শহর ঘিরতে হয় তুমি ই শিখিয়েছো বাংলাভাষায়
আজ দুশো বছর বাদেও নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে
দলবেঁধে আমরা ভাবছি
দামোদরে নামব কি নামব না
ভাতের থালার সামনে বসলে এখানো গা গুলিয়ে
যায় যখন সেই চিত্র ভাসে চোখে
বিদেশে বিভূয়ে সতীর্থ কবিবর মাইকেল
অর্থহীন, একথা স্বত ই মনে আসে আর
চোখ জলে ভরে ওঠে
বিধবা বিবাহ এখনও সহস্র সূর্যের বিস্ফোরণ
এক নির্ভার ভাষার মধ্যে দিয়ে হাটতে হাটতে
যেসব মৃতদেহ গুলি দেখছি
তারা আস্তে আস্তে উঠে বসছে
লাঠি টিয়ার গ্যাস গুলির মধ্যে দিয়ে
আজ দুশো বছর বাদে
চারদিক থেকে চারটা মিছিল আসছে
আজ সবার গন্তব্য বীরসিংহপুর ...
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ
-
ছড়া ও কবিতা
-
18-02-2020
-
-