অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় এর চারটি কবিতা

নিষ্ঠুর
ভালবাসতে বাসতে আমরা এতদূর এসে পড়েছি
আজ থেকে নতুন পাঠ, নিষ্ঠুরতা চর্চা
হাসিখুশি মেয়ে অথচ চনমন করছে নিষ্ঠুরতা
প্রাচীন একটা বাড়ি, আর মজে যাওয়া
কুয়োর পাশে বসে নিষ্ঠুরতার চ‍র্চা করছেন
মাষ্টারমশাই, ছাত্ররা পাঠ নিচ্ছে ডাক্তার
ইঞ্জিনিয়ার ব‍্যাঙ্ক ম‍্যানাজার 
এমনকি চিঠি বিলি করা পিওন
সবার অলক্ষ্যে একদান নিষ্ঠুরতা খেলে
নিচ্ছেন, আজ আমরা রাজ‍্যসড়ক ধরে
ভালোবাসাকে ঝেড়ে ফেলতে ফেলতে চলেছি
আমাদের সঙ্গীরা এখনো জানেনা 
একটু পরেই ওদের ডেকে তুলতে হবে
কবরস্থান থেকে
হো হো উল্লাস নিয়ে নিষ্ঠুর এই পৃথিবী অপেক্ষা করছে, সাক্ষী আছেন সপ্তর্ষিমন্ডল...

রূপালী পালক
আকাঙ্ক্ষার জাল ছিন্ন করে পাখি উড়ে গেল নীলাকাশে, সে উড়ে যাওয়ায় পুড়ে যায় দেহ
ধস নামে রূপনারায়ণে
আমি বই থেকে মুখ তুলে ছুটে আসি
ছুটে এসে তুমিও দ‍্যাখো
জানলার পাশে কতটা জমেছে মেঘ কতটা কুয়াশা এই দু হাজার ঊনিশের নভেম্বরে ও
আমরা কেউ কাউকে
বলতে পারিনি মনুষ্য জন্ম শুধু ডুবন্ত শিলার

সুরাসুর
বুকের উপর মুখ রেখে ঘুমিয়ে পড়েছো
জেগে দেখো কতদূর পৌঁছনোর পর কাছে এল
হত্যার সীমানা, যারা এখনও জীবিত
তারা হয়তো লাশ হবে কাল
তাই আজ সকাল সকাল, সকাল সকাল
সকলের কাছে ঋণী তুকারাম
কবীর মান্টো কাউকে ভুলিনি
গোপনে আরতি করি
ভিড়েতো মিশে থাকে সমস্ত মুখ ও মুখোশ
আর জল গড়াতে থাকে বহুদূর
না আমি অক্ষত আছি
জীবিতের ধর্ম বুঝি বহুস্বরে সুরাসুর...

জলপরীরা আত্মহত্যার জন্য প্রস্তুত
সূর্যের নামগন্ধ নেই, অন্ধকারে প্রতিটি প্রেম ঠিকানাবিহীন শহরের ঘরবাড়ি এমনকি
চিড়িয়াখানাগুলি নীল জলে ভরে গেছে
স্তব্ধতার সঙ্গে হাহাকার মিশে হাওয়া বাতাস ভারী, অভিনয় ও অভিসার দুইই এখন মুদ্রার দুপিঠ
যেসব বন্ধু আমাকে দু:খ দিয়ে আনন্দ পেত
তারা সব জ‍্যোৎস্না হয়ে গেছে
কী মজা! কী মজা!কাছাকাছি কোনো অতিথিশালা নেই, সূর্যের নামগন্ধ নেই
তাই মদ‍্যপানের অঢ়েলব‍্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তারা যে আর নেমে আসতে পারছে না
শরীর ও হালকা হয়ে ছ ভাগের এক ভাগ 
এখন সেখানে তাই সময়হীন বসন্তকাল চলছে
তবু জনমানবহীন রঙ আর বরফের খেলায়
সারাক্ষণ এ স্বপ্নদৃশ্য দেখে আমি
হাসতে হাসতে কেঁদে ফেললাম.......

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত