অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
দেওয়ান সেলিম চৌধুরী-র কবিতা

ফাগুনের প্রত্যাশায়
সমাজ দাঁড়িয়ে আছে খর্গ হাতে
বিধাতা নিয়ে আগুন
সন্তানেরা করিছে আপন হিসাব
আমারতো আসেনা ফাগুন।

বিদেশে এসেছিনু,, পরিচয়হীন, স্বজনবিহীন, রিক্তহাতে
কখনো বুঝিনি, কি ব্যবধান, দিনে অথবা রাতে।
বেঁচে থাকার সমস্ত তাগিদ, ফেলে আসা কিছু মুখ,
ভুলেছিনু আমার আমিকে, ভুলে ছিনু মোর সুখ।
ভুলে যাওয়া সেই সুখ, মেলিল ডানা, অজানা পানে 
আজো ফিরে নাই, ফিরিবে কিনা, কে জানে।

বসিয়াছি চেয়ে, সম্মুখ পানে, ফাগুনের টানে
নিয়তি কখন কোথা নিয়ে যায়, কে জানে।

বিবেকহীন প্রান
যে জন্মান্ধ, তাকে দিয়ে সমাজের নাহি কোন ভয়।
নিজের প্রয়োজনে নিজেকেই ব্যস্ত থাকিতে হয়।
নিতান্ত নিরীহ সে, করেনা কারো ক্ষতি
সর্বদা ভয়ে ক্লিষ্ট, শ্লথ তার গতি।

দেখে নাই মানুষ, তাই জানেনা মানুষ কি।
বাঁচার তাগিদে চলিতে হয়, রাস্তায় একাকী।
করেনা চুরিদারি, কুশিক্ষার অভাব
লোভ নেই কিছুতেই, অন্ধত্বের প্রভাব।

যারা চোখে দেখে, অথচ বিবেক হয়েছে অন্ধ,
তাহারাই বহিয়া আনে, সমাজের যত মন্দ।
শিক্ষা নিয়েছে উচ্চমানের, বিবেক দিয়েছে ছাড়ি।
এই শ্রেনীটাই সমাজের মাঝে আছে ভুরি ভুরি।

বড় বড় মিথ্যা বুলি করিয়া রপ্ত
বিবেকহীন মানুষেরে করিছে শুধু জব্দ।
কি ধর্ম, কি রাজনীতি, সবই একই শব্দ।

একটা দেশের লাগি বিবেকহীন প্রান
অশুভ, অকল্যাণ, অন্তহীন বোঝার সমান।

দেওয়ান সেলিম চৌধুরী
অটোয়া, কানাডা।