অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
উপেক্ষা - ফরিদ তালুকদার

তুমি যখন ফাগুন ঝরা বিকেলের পথে হাঁটো, 
পলাশের লাল শাখায়, হামাগুড়ি খাওয়া বসন্ত আর, 
নিবিষ্ট চিত্তে খুঁটে খাওয়া খয়েরী শালিকেরা;  
অকারণ এক চঞ্চলতায় ভোগে।

আকাশচুম্বী হয়ে যায়, 
সারাদিন প্রায় অচ্ছুত পড়ে থাকা মেঠো পথটুকুর অহংকার 
আজন্ম পরিচিত এই পথ, হঠাৎ ঐশ্বর্য্যে দুলে ওঠা ফাগুনের এই বাতাস, 
তখন যেন আমাকে আর চিনতেই পারে না! 
দিগন্তের শেষ আলোটুকুও, আর একটু দাঁড়াই দাঁড়াই বলে 
সময়ের ভিক্ষা চাইতে থাকে বিমূঢ় সূর্যের কাছে।

নীমিলিত চোখ হতে শিখিনি কোনদিন
চন্দনের সুগন্ধিতে মমি করা, আমার বুকের কোণে গচ্ছিত সুখটুকু, 
তখন নীড় ভাঙা পাখির মতো ডানা ঝাপ্টে উড়ে যায়; 
হয়তো দ্বিতীয় মৃত্যুর খোঁজে! 
সান্ধ্য সাগরের ঢেউয়ের মতো, এক অবাধ শূন্যতা তখন বাসা বাঁধে সেখানে।
সবকিছু খুব তুচ্ছ মনে হয় তখন
এই সাগর, প্রকৃতি বলয়, রঙিন ফোঁটায় ঝরা গোধূলির আলো, সব..
কেবল, নামহীন এক বন্যতার রূপ নেয় দুর্বিনীত ভালোবাসা 
মনে হয়, মনে হয়.. 
নগ্ন মুষ্টিতে ভেঙে ফেলি সব প্রাচীন নগরীর কাঁচের দেয়াল!

প্রাকৃত পুরুষের লাল শোনিত বয় ধমনিতে
শিখে নিতে পারিনি কখনো, 
কিভাবে হতে হয় অবনত  এই গোঁড়া সভ্যতার কাছে;
ঘৃণা, সে তো নিত্য সহা
কিন্তু উপেক্ষা? সে যে খুন করে পলে পলে!!

ফরিদ তালুকদার। টরন্টো, কানাডা