অটোয়া, বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল, ২০২৫
দু’টি কবিতা - আনোয়ার রশীদ সাগর

এলো গো এলো
প্রখর রৌদ্রে ঝলছে যাওয়া চৈতি
ক্লান্ত শরীরে বসে থাকে বটের ছায়ায়,
ঝিলঝিল করে কাপে চোখের পর্দা
দূর মাঠে রৌদ্রের নাচানাচি।
ঝইড়ু কোণায় জেগে ওঠে দ্বৈত্যের মেঘমালা,বাপ গো বাপ, ধান বুনতি হবে মাঠে মাঠে; নেচে ওঠে চৈতির ক্লান্ত মন।- দ্রুত পায়ে হাটে সে, ছাগলের পাল দৌড়ায় আশ্রয়ের খোঁজে।
ঢেকে আসে আকাশের ঠিকানা,আঁধারের ঘিরে ধরা দেখে বুক কাপে, ঝড় এলো হয়তো,
ভয় নেই জানে,উচ্ছাস আনন্দে মেতে ওঠে কৃষকের প্রাণ, ঘরে-নতুনের জয়-গান।
এ ঝড়, ঝড় নয়; জীবনের শুরু,ফসল ফলানোর আয়োজন।গর্ভবতী মায়ের প্রসাবের সংবাদ।
পাড়ায় পাড়ায়, বাড়ি বাড়ি খবর হলো-
সারগাদার সার তুলে, মাঙলহালার জোড় বেধে, মাঠে মাঠে ছড়ানোর উল্লাস।
ধান বোনার দিন আইসিছে গো,
চৈতি মায়ের বিদায় দিব-
চলো করি, বিয়ের আয়োজন;
মেঘের পিঠে চড়ে এলো জামাই বৈশাখ।

অঙ্কুরিত হওয়ার স্বপ্ন
নৈঃশব্দের আঁধারে ভুতের দাঁত ভেঙচানি
বৃক্ষের তালুতে জোছনার বিচ্ছুরণ
ঝরে পড়ে আদিম বীর্যবৃষ্টি বিনা সঙ্গমে,
নগ্ননৃত্যের মঞ্চে অবৈধ নর্তকী নাচে
দূর্গন্ধ ছড়ায় নীলিমায় নীলিমায়।
আজো সনাতন সঙ্গমে
সাদাকালো সন্তান জন্মে ডালে ডালে,
দূর্ভাগ্য,বড়ই দূর্ভাগ্য পাখিদের
ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে আছড়িয়ে পড়ে
নদের জলে; নদীর জলে।
বৃক্ষের তামাটে পাখিরা ঝড়ের আতঙ্কে
ঝরে পড়ে মাঠে-ঘাটে,
মেঘ ভেঙে পড়ে সবুজের কিনারে
জলনদী মাঠ-ঘাট একাকার।
ডালে ডালে ডানায় ডানায় যন্ত্রণা,
যন্ত্রণা অস্থিমজ্জায়;
তবু ঝরাপাতার লড়াই-
অঙ্কুরিত হবেই নতুনের গানে।

আনোয়ার রশীদ সাগর । চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ