অটোয়া, বুধবার ১৯ জুন, ২০২৪
ভিন্ন জীবন (পর্ব - তিন) - সুফিয়া ফারজানা

ধারাবাহিক উপন্যাস "ভিন্ন জীবন" পর্ব দুই পড়তে ক্লিক করুন 

পর্ব - তিন
জও অফিসে পৌঁছাতে দশ মিনিট লেট হয়ে গেল ফারিনের। সকালে ব্রেকফাস্ট, সবার টিফিন গুছিয়ে দেয়া, সাবিত-সারাকে স্কুলের জন্য রেডী করানো, সবই তো একা হাতেই করতে হয়। এর মধ্যে অসুস্থ শাশুড়িকে নাস্তা দেয়া, ঔষধ খাওয়ানো, নিজে রেডী হওয়া। উফ্! কি যে এক যুদ্ধ চলে সকাল বেলাটায়! অবশ্য সাবিত-সারাকে স্কুলে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব ওদের বাবার। আর ছুটির পরে স্কুল থেকে নিয়ে আসবে লিলি বুয়া।

আজ নিয়ে পর পর তিন দিন লেট। আজ তো ঢুকতেই এম ডি স্যারের সামনে পরে গেল ফারিন। স্যার তার স্বভাব মত মধুর হেসে বললেন, 'আগে তো জানতাম, লেডিস ফার্স্ট। আসলেই কি তাই?? মনে তো হয় না। আপনি তো ইয়াং লেডী, অলওয়েজ লেট।'

অপমানটা চুপচাপ হজম করে নিজের ডেস্কে চলে গেল ফারিন। একটু গুছিয়ে বসতে না বসতেই হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট, 'এত লেট কেন? টেনশন হয় তো।' তার দুই টেবিল পরেই বসে আরমান। তার সমবয়সী, কলিগ, বন্ধুও বলা যায়। না, পূর্ব পরিচিত নয়। তবে এই চাকরিতে জয়েন করেছিল তারা একই দিনে। শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আরমান ভালো। পরোপকারী, সহজ সরল ভালো মানুষ। তবে একটু বেশি গায়ে পরা মনে হয় ইদানীং। এত বেশি আগ্রহ ভালো লাগে না ফারিনের।

নিজের কাজে মন দিলো ফারিন। হিমেলকে ফোন দিয়ে জানলো, বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে চলে গেছে সে। কখনও নিজে থেকে জানাবে না তো। এত উদাসীনতাও কি ভালো? কী বিচিত্র মানুষের জীবন! কারো অতিরিক্ত কৌতূহল বিরক্তির কারণ হয়। আবার কারও কারও উদাসীনতা নিষ্ঠুরতার শামিল। কে জানে, কোনটা যে ঠিক! কোনটা যে আসলে চায় সে??

হিমেল ভার্সিটিতে ক্লাসমেট ছিল তার। ভালবেসে বিয়ে করে তারা। এখনও সেই উদ্দাম দিনগুলো মনে পরে ফারিনের। কী পাগলের মত ভালবাসতো হিমেল তাকে! এক নজর দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতো তার হলের গেটে। হিমেলের কি কখনও মনে পরে সেসব হারিয়ে যাওয়া পুরনো দিনের কথা? মানুষটাকে তো পেয়েছে সে। ফারিন আজ তার দুই সন্তানের মা। কিন্তু সেই সময়টা, সেই অনুভূতিগুলো কোথায় হারিয়ে গেল?? দিনের পর দিন পাশে থেকেও, একই ছাদের নীচে বসবাস করেও কিভাবে, কখন একটু একটু করে দূরে সরে যায়, হারিয়ে যায় মানুষ??
(চলবে)

সুফিয়া ফারজানা
ঢাকা, বাংলাদেশ