অটোয়া, সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯
বিদায় বলাটাও কষ্টের, নক্ষত্রের প্রস্থান নেই - নয়ন চক্রবর্ত্তী

কজন নিখাদ ভদ্রলোকের প্রস্থান সবসময় বেদনার। বাংলাদেশের ইতিহাসে শুদ্ধ রাজনীতিবিদ কয়জন আছে? এমন প্রশ্ন করলেই চোখে ভেসে আসা ছবি গুলোর মধ্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অন্যতম। ভালোবাসার একটি নাম। তরুণ প্রজন্মের কাছে আশরাফ ভাই। একজন রাজনীতি সচেতন ব্যক্তির কাছে আশরাফুল ইসলাম আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। কারণ বাপ কা বেটা। সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে বলে কথা। এই বাংলাদেশ যাদের কারণে পাওয়া তাদের একজন সৈয়দ নজরুল  ইসলাম, ওনার ছেলে হিসেবে আশরাফুল ইসলামের যতটুকু এই দেশ দশের জন্য দেয়া তার চাইতে ঢের বেশী দিয়েছেন তিনি। আওয়ামীলীগের সর্বশেষ সম্মেলনে যে আবেগময় বক্তব্য তিনি রেখেছিলেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যে শ্রদ্ধা আস্থার ঠিকানা রেখেছিলেন তা শুধু রাজনীতির ইতিহাসে বিরল বললে ভুল হবে পারিবারিক বন্ধনের বহিঃপ্রকাশ ফুটে উঠে। গতবছরের ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে হারিয়েছিলো দূরদর্শী রাজনীতিবিদ এবং চট্টলার অভিভাবক চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরীকে এ বছর জানুয়ারীতে আরেক নক্ষত্রের পতন হলো।  বড় প্রয়োজন ছিল আওয়ামীলীগের মতো একটি দলে এরকম নেতার, দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এরকম নিখাদ ভদ্রলোকের। সজ্জন ব্যক্তি আশরাফুল ইসলাম মন্ত্রী থাকাকালীন কোন লবিং এবং তদবিরেরর সুযোগ দিতেন না বলে অনেকের বিরাগভাজন ও ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের কোন ব্যক্তি নাকি বলতে পারত না আশরাফ ভাই অনিয়ম করেছে। এসব তুলনার জন্য আশরাফ ভাই সকলের কাছে একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক।

ভালোবাসা যাকে তাকে বিলিয়ে দেওয়ার জিনিস নই, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য ভালোবাসা এমনিতে আসে না ব্যক্তিত্বে আসে। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, মানুষের মুখে মুখে বলেন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের নাম এমনিতে আসছে না তাঁর কর্মে তাঁর স্বীয় গুনে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পিতাকে যেমন বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন মনে রাখবে তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার এই আস্থাবান আওয়ামীলীগের সৈনিক সারা বাংলাদেশের গণমানুষের সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে ও মনে রাখবে শ্রদ্ধা ভরে।

 সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

দুঃসময়ে আওয়ামীলীগের হাল ধরেছে এই মাঝি। প্রতারক বিশ্বাসঘাতকদের সকল ষড়যন্ত্র নষ্ট করে বিজয় নিশান উড়িয়েছিল আশরাফুল ইসলাম। মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মে। বিত্ত আর পেশীশক্তির বর্তমান রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীতে আদর্শিক রাজনীতির বরপুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ভালো থাকুন। আপনার তুলনা আপনি নিজেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা রবে। এই সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষ আজ চোখে জলে আপনাকে স্মরণ করছে। রাজনীতির মমত্ববোধ তো যাকে তাকে শিখানো যায়না,শিখে রাজনীতিজ্ঞরাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর  সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের হাতে হাত রাখা   ছবিটি দেখে আমরা সাধারণরা যেমন আবেগপ্রবণ হয় কারণ চোখে যাদের স্বপ্ন অনেক তারা ভালোবাসার মানুষ হয় শ্রদ্ধার পাত্র হয়। তেমনি শ্রদ্ধাজন আশরাফ ভাই পরপারে ভালো থাকুন, বিদায় আশরাফ ভাই।  

নয়ন চক্রবর্ত্তী
রিপোর্টার,  দেশ রূপান্তর।
বাংলাদেশ।