অটোয়া, মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
ফেলে আসা দিনগুলি (সপ্তম পর্ব) – হুমায়ুন কবির

মাঝরাতে পাশের বাড়ির চিৎকার আর চেচামেচিতে চয়নের ঘুম ভেঙ্গে গেলো। কে যেনো দরজা খুলছে। তাকিয়ে দেখে চয়নের মা ও কাজের বুয়া মরজিনার মা। দেখতে যাচ্ছে। চয়ন বললো,
-মা, আমিও যাবো।
-না। তুই ঘুমিয়ে থাক। এখন অনেক রাত। সায়লাদের বাসায় কি যেনো হয়েছে। তোর বাবা ঘুমাচ্ছে। আমরা যাবো আর আসবো।
-না, মা আমিও তোমাদের সঙ্গে যাবো। 
এমন করে চয়ন বললো, মা আর না করতে পারলোনা। 
-আচ্ছা আয়, তাড়াতাড়ি আয়।   
চয়ন ঘুমানোর কাপড় পরেই মায়ের সঙ্গে সায়লাদের বাড়ির দিকে যাওয়ার জন্য বের হোল।

সায়লার মা রহিমা বেগম বিলাপ করে কাঁদছে। ভীষণ কান্না করছে। সায়লার স্বামী রাতের বেলায় গরম পানি করে সায়লার শরীরে ঢেলে দিয়েছে। সায়লা ঘুমাচ্ছিলো। সায়লার শশুর বাড়ি থেকে ফোনে জানানো হয়েছে। সেই থেকে সায়লার মা রহিমা বেগম শুধুই কান্না করছে। চয়নের মা'কে দেখে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলো। 
-আপা, আমার সায়লাকে ওরা মেরে ফেলেছে। আমার এতো ভালো মেয়েটা! সেই যে বিয়ের পর থেকেই সমস্ত যন্ত্রণা নিরবে সহ্য করে যাচ্ছিলো। ঘুমাতে যাওয়ার আগেও আমার সঙ্গে কথা বলেছে। ফয়সাল অনেক রাতে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরলে সায়লা কিছু বললেই শুরু হয় নির্যাতন। সায়লা সাধারণত প্রতিবাদ করেনা। মাঝে মাঝে অতিরিক্ত কিছু হলেই প্রতিবাদ করে। আর প্রতিবাদ করা মানেই নির্যাতন শুরু। কতো সহ্য করা যায় আপা? মেয়ে হয়ে জন্মেছি বলেকি সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে যেতে হবে? কেন আপা? এমন কেন? দেশে কি কোন আইন নেই? বিচার নেই? নেই! থাকলে মানুষ এতো অন্যায় করতে ভয় পেতো। মানুষতো এখন পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে গেছে আপা! 

একদমে কথাগুলি শেষ করে আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছে নিতে চেষ্টা করলো। চয়নের মা শান্তনা দিতে চেষ্টা করলো। কিন্ত কি শান্তনা দিবে? কি বলবে? কি-ইবা বলার আছে?  একমাত্র মেয়ের এতো বিপদের কথা জানলে কজন মা ঠিক থাকতে পারে? সায়লার বাবা হাসপাতালে সায়লাকে দেখতে গেছে। ফিরে এলে হয়তো কিছু একটা জানা যাবে? মায়ের পিছনে দাঁড়িয়ে সমস্ত ব্যাপারটাই চয়ন দেখেছে। মাঝে মাঝে টিভিতে ওয়াইল্ড লাইফে দেখা যায় হিংস্র প্রাণীরা ক্ষুদা পেলেই কেবলমাত্র অন্য প্রাণী হত্যা করে। সেটা হয়তো প্রাণীদের স্বভাব । ক্ষুদা না পেলে কোন প্রাণীই সম্ভবত অকারণে অন্য প্রাণীদের হত্যা করেনা। কিন্ত মানুষ কেন বিনা কারণে এতো হিংস্র হয়? কেনো হয়? মানুষতো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। শ্রেষ্ঠরাই কি তাহলে প্রাণীদের চেয়ে অধম হবে? কেন হবে? চয়নের মাথায় হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। কোন উত্তর জানা নেই। মা, মরজিনার মাকে ডাকলেন,
-মরজিনার মা?
-জি, আম্মা? 
-চলো আমরা যাই। 
-জি আম্মা। 
যাওয়ার আগে সায়লার মাকে বললেন,
-আপা, মন খারাপ করবেননা। সব ঠিক হয়ে যাবে।
-তাই যেনো হয় আপা।
-জি। তাই হবে। আর সায়লার কোন খবর পেলে আমাকে জানাবেন।
-জি, আপা জানাবো। আপনি দোয়া করবেন। 
-জি অবশ্যই। তাহলে আজকে যাই। -জি আপা।  

চয়নরা সায়লাদের বাড়ি থেকে ফিরে নিজেদের বাসায় এলো। রাত প্রায় শেষ। বাকি রাতটুকু চয়নের আর ঘুম এলোনা। মানুষের এতো নিষ্ঠুরতা চয়নকে গভীর বেদনার উত্তাল সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চয়ন বেদনার সাগরে ভাসছে আর ভাবছে।
"মানুষ কি তাহলে সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ না? তাহলে কেনো মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলা হবে? কেন বলা হবে? কিছু কিছু মানুষতো প্রাণীদের চেয়েও নিকৃষ্ট! তাহলে মানুষকে মিথ্যাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলা হয়!

যেদিন স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা হয়েছিলো, সেদিন মাইকে ভূপেন হাজারিকার গাওয়া বিখ্যাত সেই গানটি বাজছিলো। গানের সেই কথা ও সূর বাতাসে ছড়িয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছিলো। 
"মানুষ মানুষের জন্য একটু সহানুভূতি কি পেতে পারে না ও বন্ধু"?
এই গানের কথাগুলির কি মূল্য আছে মানুষের কাছে? সহানুভূতিতো দূরের কথা, মানুষতো এখন স্বার্থের জন্য নিজের ভাই, মা, বাবা ও যে কোন মানুষকেই হত্যা করতে পারে।

অথচ এক একটা মানুষতো এক একটা পৃথিবী। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তার একটি বিখ্যাত লেখায় বলেছেন,
"যারা খুন করে, তারা জানেনা একজন মানুষ মানে একটি জগত। কতো সম্পর্ক জড়িয়ে থাকে একজন মানুষের সঙ্গে! বৌ-বাচ্চা, মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব  আরও কতো কে! যারা খুন করে, তারা মারে একজন বিচ্ছিন্ন মানুষকে। সেই মার তাকে ছাড়িয়ে, ছড়িয়ে ছড়িয়ে যায়!  একজন মানুষের সঙ্গে আরো কতো মানুষ খুন হয়! যারা খুন করে তারাকি তা জানে?"

জানেনা। অবশ্যই জানেনা। জানলে মানুষের সঙ্গে  মানুষ এমন নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারতো না। " সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই" এযেনো এক কল্পলোকের গল্প! 

সায়লার বাবা ফয়সালের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করার পর ফয়সালকে আইনের লোকজন এসে ধরে নিয়ে যায় এবং ফয়সালকে আদালত আটক রাখার নির্দেশ দেন। ফয়সাল আটক হয়। সায়লার অবস্থা মোটামোটি ভালো। ডাক্তারদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সায়লা সেরে উঠেছে এবং সুস্থ্য হওয়ার পর প্রথম ফয়সালকেই খুঁজেছে । ফয়সাল আটক আছে এটা জানতে পারার পর সায়লা নিজেই আদালতে হাজির হয়ে স্বামীকে মুক্ত করে আনে। এতে সায়লার বাবা খুব কস্ট পেলেও সায়লার এই ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়। একটা মেয়ের বিয়ের পর তার স্বামীর বাড়িই তার নিজের বাড়ি এবং স্বামীই তার সবার চেয়ে আপনজন হওয়া উচিত। 

সায়লা সেটাই প্রমান করলো। সায়লার আন্তরিকতায় ফয়সাল কৃতজ্ঞ।  চিরকৃতজ্ঞ । ধিরে ধিরে ফয়সালও নিজেকে বদলাতে থাকে। সায়লা উদার না হলে হয়তো জেলেই বাকি জীবন কাটাতে হতো। কিন্ত সায়লার অসম্ভব ভালোবাসার কাছে সব কিছু ভেসে গেলো। শুধু মাত্র রয়ে গেলো ভালোবাসা। শুধুই ভালোবাসা। লাল, নিল আর সবুজ ভালোবাসা।

সায়লা বাসায় ফিরছিলো। চয়নের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো। সঙ্গে ফয়সাল রয়েছে। চয়নকে দেখে সায়লা দাড়ালো। চয়ন কাছে এসে মিস্টি করে হেসে দিয়ে বললো,
-সায়লা আপু ,তুমি ভালো আছো?
- জি , ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?
-আমিও ভালো আছি আপু। সেদিন রাতে তোমাদের বাসায় গিয়েছিলাম। তোমার জন্য মনটা কেমন করছিলো। বাসায় আসার পর বাকী রাতে আর ঘুম আসেনি। শুধুই তোমাকে মনে পড়েছে। আজকে তোমাকে একটা স্যালুট করবো?
-মানে কি?
-কোন মানে নেই। আমার ইচ্ছা হচ্ছে তাই! 
সায়লা কাছে এসে চয়নের চিবুক স্পর্শ করে কপালে চুমু খেলো। চয়ন একটু সরে দাঁড়িয়ে বললো,
-সায়লা আপু, তোমাকে স্যালুট।

কাছেই ফয়সাল দাঁড়িয়েছিলো।  ফয়সাল ছোট্ট একটা ছেলের এতো সুন্দর অভিবাদনে মুগ্ধ। সায়লা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দশটাকার চকচকে নোট বের করে চয়নের হাতে গুজে দিয়ে বললো, 
- এটা তোর। ইচ্ছা মতো খরচ করার জন্য।
- না- না, সায়লা আপু, লাগবেনা। আমি এমনিতেই অনেক অনেক খুশি। 
-নে ধর। আমি তোর আপু  না? 
-জি।
-তাহলে?
-টাকা লাগবেনা। 
-তোকে চকলেট খেতে দিলাম। ভালো থাকবি। খালাম্মাকে সঙ্গে করে বেড়াতে আসবি।
-জি, আসবো। তুমিও আমাদের বাসায় বেড়াতে যেও।
-যাবো।  

সায়লা ফয়সালের হাত ধরে এগিয়ে চললো। পিছন থেকে চয়ন অবাক বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। আর ভাবছে,
-কি সুন্দর লাগছে। যেনো গল্পে পড়া একটি রাজ কুমার আর একটি রাজকুমারী! আহা! পৃথিবীর সমস্ত মেয়েদের জীবন যদি সায়লা আপুর মতো হতো! তাহলে খুব ভালো হতো। মানুষের শান্তি আর হাসি ভরা মুখ দেখতে পাওয়াও কম ভাগ্যের ব্যাপার না। অভিবাদন সায়লা আপু , তোমাকে অভিবাদন!     

রাবেয়া খালার সঙ্গে জসিম মেলায় এসে চয়নের কি যে ভালো লাগছে, তা বলে বুঝাবার নয়। পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের বাড়ির সামনের ছোট কুমার নদের তীরে মেলা বসেছে। মেলার চারপাশটা খোলা । মাতাল করা বাতাস, দিগন্তজোড়া সবুজ ফসলের মাঠ। যতদূর দৃষ্টি যায় ধু-ধু প্রান্তর। মাথার উপর দিয়ে দল বেধে শঙ্খ শালিখের ঝাঁক উড়ে গেলো। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। নদীর তীর ঘেসে কাশ বনের শুভ্রতা যেনো শরতের শুদ্ধতা ছড়িয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সারি সারি দোকানী বাহারী পণ্যের পশরা সাজিয়ে বসেছে। এক পাশে মুড়ি, মুরকি আরো নাম না জানা খাবারের দোকান। এক পাশে রঙবেরঙের খেলনার দোকান। আর এক পাশে বসেছে মেয়েদের প্রসাধনীর দোকানে। সেখানে মেয়েদের ভিড় লেগেই আছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের বাজানো বাঁশির প্যা-পু-আওয়াজে মেলা যেনো স্বপ্ন পুরিতে পরিণত হয়েছে।   

চয়ন যেনো এক স্বপ্নপুরীতে এসেছে। রাবেয়া মেয়েদের গহনার দোকান থেকে বাঁশের তৈরি চুলের ক্লিপ, কাঠের তৈরি বালা এসব কিনলো। একটা গ্যাস বেলুনের দোকান থেকে রাবেয়া চয়নকে রঙবেরঙের বেলুন কিনে দিলো। বেলুনগুলি একত্রে করে বাধা। চয়নকে বললো,
-সাবধানের ধরে রাখবি। নইলে কিন্ত উড়ে চলে যাবে।  
-জি খালা। আমি ধরে রেখেছি। এক  পাশের নাগড় দোলায় লাইন ধরে ছেলে, বুড়ো সবাই উঠছে। আর এক  পাশে বসেছে পুতুল নাচের দোকান। সেখানে রুপবান ও রহিম বাদশার গান বাজানো হচ্ছে। 
"ও দাইমা কিসের বাদ্য বাজেরে! আমার দাইমা। দাইমারে!---

একজন মাঝ বয়সী লোক বাঁশের মাথায় রঙ করা মিস্টি জাতীয় খাবার বিক্রি করছে। সে এক অপূর্ব ব্যাপার। খাবারটা দেখতে অনেকটা চকলেটের মতো। গোলাপি আর সাদা রঙের মিশেলে তৈরী। সেটা আবার রাবারের মতো টেনে বড় করা যায়। সেটা দিয়ে বিভিন্ন ধরণের জিনিসের রূপ দিচ্ছে। সাপ, হুক্কা, গলার হার, আঙ্টি এইসব আর কি । খালা চয়নেকে একটা গজমতি হার কিনে দিলো। 

গজমতি হাড়! চয়ন ভারি অবাক হোল। সত্যি সত্যি গজমতি হাড়ের আদলে গড়া হয়েছে। ভারি ভালো লাগলো চয়নের কাছে। দোকানী বৃদ্ধ মানুষ হলেও বেশ রসিক। অনেক মজা করে কথা বলে। চয়নকে গজমতি হাড় দিতে দিতে বললো
-এই নাও তোমার বৌ-এর জন্য বানানো গজমতি হাড়!

চয়ন একটু লজ্জা পেলো। চয়নকে লজ্জা পেতে দেখে রাবেয়া মিস্টি করে হাসলো। ফেরার সময় পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের কবরের সামনে ডালিম  গাছের তলায় এসে দাঁড়ালো। কবিতায় পড়া সেই বিখ্যাত লাইনগুলি চয়নের মনে পরলো,
"এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে"। চয়নে একবার পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের জন্মবার্ষিকীতে  বিটিভি'র একটা কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানে কবির চরিত্রের মতো একজন আবৃত্তিকারকে কবির মতো করে একটি ছোট শিশুকে কবির লেখা বিখ্যাত সেই কবর কবিতার আবৃত্তি করে শোনাতে দেখেছে। যেনো কবি নিজেই তার ছোট নাতিকে বলছে, 

" এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে।" আজ আবার সেই , সেদিনের দেখা সেই স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠলো। যেনো কবি নিজেই আবৃত্তি করছে। অথচ সামনেই কবির কবর। শুয়ে আছে কবি, ডালিম গাছের শিতল ছায়ায়। 

পথে রেল রাস্তা পরলো। রাবেয়া চয়নের হাত ধরে রেল রাস্তা পার হতে সাহায্য করলো। কি সুন্দর রেল রাস্তা! চয়ন কখনো রেলগাড়িও দেখে নাই। শুধু ছবিতে দেখেছে। রেলগাড়ি! না-জানি কতো সুন্দর! আর এ জন্যেই হয়তো পথের পাঁচালির দুর্গা মারা যাওয়ার আগেও তার ছোট ভাই অপুকে বলেছিলো,
"অপু সেরে উঠলে আমাকে একবার রেলগাড়ি দেখাতে নিয়ে যাবি"? চয়নেরও ভারি ইচ্ছা হোল রেলগাড়ি দেখার। রাবেয়াকে বললো,
-খালা, রেলগাড়ি কখন আসবে? আমি কখনো রেলগাড়ি দেখি নাই।
-ও আচ্ছা। কোন সমস্যা নেই। একদিন সময় করে আমি তোকে নিয়ে রেলগাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়াবো। তাতে রেলগাড়িও দেখা হবে। আবার রেলগাড়িতে চড়াও হবে।
-সত্যি?
-মানে কি? আমি তোকে মিথ্যা বলছি? 
-না খালা। তুমিতো কখনও মিথ্যা বলনা। এমনিতেই বলেছি। খুশিতে। সরি।
-আরে না। তুইও অনেক ভালো। আমি তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি।
-আমিও তোমাকে ভালোবাসি খালা।
-ঠিক আছে। চল এবার তাহলে বাসায় যাই।
-জি, খালা। চলো।

ফেলে আসা সেই দিনগুলির কথা চয়নকে প্রতি মুহূর্তে হাতছানি দিয়ে ডাকে।  চয়নের চোখের সামনে আজো সেদিনের সেই জসিম মেলার সব কিছু ভেসে উঠে। ফসলের মাঠ, কাশবন, সঙ্খ শালিখের ঝাঁক। নদীর ধার সবকিছু। কান পাতলেই চয়ন পুতুল নাচের প্যান্ডেলে বাজানো সেই সেদিনের রহিম বাদশাহ আর রুপবান কন্যার গান শুনতে পায়,
" ও দাইমা কিসের বাদ্য বাজেরে! আমার দাইমা, দাইমারে!"  চলবে…

হুমায়ুন কবির
ঢাকা, বাংলাদেশ।