অটোয়া, শনিবার ২১ মে, ২০২২
মহামারীর গ্রাসে - মৈত্রেয়ী সিংহরায়

হামারীর গ্রাসে 
পেটে ভাত নেই, জীবন যে যায় ভেসে
ছেলেটা ঝাঁপিয়ে পড়ে ভাতের থালায়,
মনে বল নেই, বুকে শ্বাস নেই,
খিদেটা নেকড়ে করে শুধু কাঁদায়।

মহামারীর গ্রাসে
অস্থির মন, জ্বালা ধরে বুকে
বেদনায় মূক হয়ে যায় সব শব্দরাই,
আকাশে ভেসে থাকে কালো মেঘ
বুক জুড়ে আজ কান্না,শুধু কান্নাটাই‌।

মহামারীর গ্রাসে
আমরা লড়ছি ভিতরে বাইরে
চোখের পাতায় জমেছে শতবর্ষের কালি,
এ দেশ জুড়ে ক্রমশঃ নামছে সন্ধ্যা
অপুষ্টিতে ভোগা মেয়েটা ভাবায় শুধু খালি।

মহামারীর গ্রাসে
গলিত অন্ধকারে সারা মাঠ ধূ ধূ করে
হাতে কাজ নেই, শুধু মৃত্যুর হাতছানি,
পথের পাশে আগাছার মতো বেঁচে আছি
এভাবেই কাটে দিনযাপনের কষ্ট ও গ্লানি।

মহামারীর গ্রাসে
কী ভীষণ অন্ধকার,বিষণ্ণতা শব্দহীন
ম্লান অবসাদে ফুঁপিয়ে উঠি,ডানা ঝাপটাই,
অভুক্ত শিশুর আর্তনাদে চমকিয়ে উঠি
জীবন কবে ছন্দে ফিরবে, শুধু ভাবায়।

মহামারীর গ্রাসে
লাইনে ঘেষাঘেষি দাঁড়িয়ে,ভাইরাস শরীরে
বেঁচে থাকার এক দুর্দম প্রচেষ্টা,
দুমড়ে মুচড়ে গেল একরাশ স্বপ্ন
চাপা গোঙানি,থাকবে তো চাকরিটা।

ঝড় বাদলের এই তুমুল হয়তো থেমে যাবে
তখনও মাস গেলে পৃথিবীতে পূর্ণিমা হবে,
জীবন্ত লাশের মিছিলে আমরা শুধু
নিষ্পলক রাতের তারারা গন্ডি কেটে দেবে।

যত পাখি আছে, যত নদী আছে দেশে
একদিন নিশ্চিত জয় হবে বলেছিল,
রাত্রি গেল, চাঁদ উঠল, জ‍্যোৎস্না নামল
আমাদের জীবনটাই শুধু অন্ধকারে ঢেকে
গেল।

তুমি শুধু একবার ভাবো
করোনার থেকে বড়ো মহামারী আজ
খিদে, খিদে আর শুধু খিদে।

মৈত্রেয়ী সিংহরায়। মেমোরি, বর্ধমান