অটোয়া, রবিবার ৩১ আগস্ট, ২০২৫
মহৎ সাজার এইতো সময় - তরুণ শিকদার

হৎ সাজার এইতো সময়,  আয়না সবাই যার যা আছে
গরমিলের ওই অবৈধ আয়, দান করে আজ ছোয়াব কামাই।
জীবন ভরে সব কামাইয়ের, হিসাব এবার নেবে  করো-নাই।
না দিলে সব রয়েই যাবে, কাগুজে নোট বাঘে খাবে
উপর থেকে নোটের মায়ায়, আবার ফিরে আসবি তবে?
তাইতো বলি আয় সবে আয়, দান করে আজ ছোয়াব কামাই।
নিজামুদ্দিন প্রথম হিরো যা ছিলো তার সবই দিলো
ভিক্ষা করে দিনমুজুরী দশ-এ-দশ সে করলো জারি।
ঝিনাইদহের অটোচালক নিজের সকল পূঁজি বিলোয়
এমন মহান হয় কখনো, সকল পূঁজিই বিলিয়ে দিলো।
মানবতার এমন খবর, খুশীতে মন ভরিয়ে দিলো। 
এসব দেখেও চোখ খোলেনা, চুরির মোহ আজও কাটেনা।
ছিটে ফোঁটা যেথায় যা পাস, এনে নিজের গোলায় ঢুকাস
চোখের পরে দুদক ঘোরে, পুলিশ ঘোরে,
তাদের থোড়াই কেয়ার করে, তেল রেখে দিস খাটের গোরে।
যাদের সাদা আয় নেই, তাদের কালো টাকাই সাদা মানি।
ওই কালো দিয়েই মহৎ হওয়ার সুযোগটাকে নেনা টানি।
চারিদিকে আজ হাহাকার, শ্রমিক মুজুর পায়না আহার
যাদের ঘামে তোদের আহার, জমেছে আজ টাকার পাহাড়।
ওরাই তো তোদের পূঁজি, ওদের বেচেই করবি রুজি।
এই  ক’টাদিন না হয় ওদের একটু খানি আহার দিলি।
তোরা যারা সারা বছর লুট করিলি, আশির আদা তিনশ’ নিলি
ধোকা দিয়ে এক নিমেষে লবণ বেচে ঘর ভরিলি
পেঁয়াজে কেটে ঝাঁজ বাড়িয়ে সারা বছর চোখ পোড়ালি।
সারা বছর চাঁদা  তুলে, এখন বলিস কই তুলিনি
এতগুলো টাকা তোরা, এমনি এমনি খেয়ে নিলি!
রোজার মাসে মওকা মেরে সবার পকেট করিস খালি।
একটু তোদের হয়না দরদ, হাত বাড়িয়ে করনা খরচ 
বাঁচলে দেশের এ সব শ্রমিক, তোদের কাজেই আসবে এরা
স্বল্প টাকায় শ্রম কিনে, লক্ষ টাকায় ভরবি ঘড়া।
 ইউটিউবে রেসিপি দিয়ে মজার মজার খাবার গিলে
রস আস্বাদনে মত্ত থেকে, বানিয়েছো মস্ত পিলে
দু’এক পদে হয়না তোমার সপ্তপদে টেবিল সাজাও
খবর কি নেও কাজের মেয়ের ছোট্ট শিশুর আজ কি মুখে উঠলো আহার।
সবাই ভাবো রাজা আছে প্রজার তরে, সেই তো থলি দেবে ভরে।
আমরা সবাই পান চিঁবিয়ে, রাজা মশাইয়ের সুনাম গাবো
সুযোগ পেলেই পকেট কেটে, নিজের খুঁতি ভরে নেব।
করোনার এই সুযোগ নিয়ে, দাওনা সবাই হাত বাড়িয়ে, 
যার যা আছে দেবার মত, সুখে দুঃখে উজাড় করে। 

তরুণ শিকদার। ঢাকা, বাংলাদেশ