অটোয়া, সোমবার ২৩ মে, ২০২২
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী-র কবিতা

স্রোতস্বিনী
বিচ্ছেদ-বিরহে বড়োই কাতর
মোর হৃদয় মম,
আজো খুঁজি হন্যে হয়ে
ছুটে চলেছি দিক-প্রান্তর।
এসেছিলে স্রোতস্বিনী
বিহঙ্গ বিদীর্ণ করে,
ভাঙ্গা তীর পলিমাটি আবৃত
ভরাট হচ্ছিল ধীরে।
আষাঢ়-শ্রাবণে দেখেছি তোমার রূপ
কতইনা ঢেউ কলতান ধ্বনি ওঠে।
এসেছিলে অন্তিম ক্ষণে
ওগো চর্যাপদের হরিনী,
ক্ষণে ক্ষণে জাগ্রত হয়েছিল
গগন প্রান্তরে আলোকরশ্মি।
ক্রমেই মননে জেগে ওঠেছিল
আশা জাগানিয়া বিশাল চর
হোলিখেলায় মত্ত হয়েছো এখন
হয়েছো ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’।
জানতে তো! চিরায়ত শিকলে বাঁধা
সেখানেই বেধেছিলে বাসা, দিয়েছিলে আশা।
তাতেই পূর্ণতা পাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলে
আজ কেন মুখ ফিরিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠলে!
তোমার অব্যক্ত কথামালা, নীরবচারী নিশ্বাস
ভেবে ছিলাম যেন অগ্নিবীণার সুর।
উন্মাদনার হাজার পঁয়ষট্টি রাত-দিন
করেছিল মোরে সমাজ বিদ্রোহী।
তবে কী বলবো! তোমার অভিনয়পটু
তখন দারুণ উপভোগ করেছি!!
মিথ্যে অপবাদ, ভয়ভীতি প্রলোভনে
চারিদিক ছিল তখন ঘেরা
নাস্তেনাবুদ হয়েছিলাম বটে,
তবুও ছাড়িনি হাল, ছেড়ে দিয়েছিলাম পাল।
বিষন্নতার ছাপ ঘিরে ফেলেছিল চারিদিক
ভীষণ ভাবে নিন্দিত হয়েছি আমি,
তুমিও তো সে থেকে রেহাই পাওনি।
ভরসা করি তোমায় হয়েছিলাম উন্মাদ
হয়েছি চিরায়ত প্রথার পালায়িত দ্রোহী।
বলি আর কতো নিঃশ্বাস ফেলবে নীরবে!
ওগো মোর স্রোতস্বিনী।
তোমার চোখের নোনাজল
অদৃশ্য যন্ত্রণার নিঃশ্বব্দ হা-হুতাস,
গোলাপি ঠোঁঠের কাতরতা,
সে তো আজো আমায় তাড়া করে
তোমার সবুজ ঘাসের অসম্ভব সুন্দর শয্যা।
তবে কেন! চলে গেলে, আশাহত করে মোরে
ওগো স্রোতস্বিনী!

চেলা নদীর বাঁকে
দীর নাম চেলা
লোকমুখে তার অনেক নাম
সেই নদীর তীর ঘেঁষে কাটাতারের বেড়া।
মেঘালয়-খাসিয়া পাহাড়ের বুক ছেদ করে
এপার-ওপার দু'পারেই বেধেছে বাসা
এ যেন প্রকৃতির এক লীলা ভূমি
নয়নাভিরাম দৃশ্যের হাতছানি।
চেলার বাঁকে ছোট্ট গাঁয়ের নাম শিমুলতলা
সীমান্তের এক পল্লি নিবাস,
গ্রামের চারিদিক শস্য-শ্যামল সবুজে ঘেরা।
অদূরেই দাঁড়িয়ে আছে সু-উচ্চ কালো পাহাড়
যেন মেঘ-বালিকাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে-
ওরে আয়, ওরে আয় ফিরে আয় তবে
আমার বুকের মধ্যখানে রয়েছে তোর মাথা গোঁজার ঠাই।
সীমান্তে ছোট বড়ো গ্রাম, আকাঁ বাঁকা মেটোপথ
সারি সারি তালগাছ, ভরপুর সবুজ-শ্যামল ছায়া।
নদীর এ অবাদ বিচরণ কেউ ঠেকাতে পারেনি
বাধা হয়ে দাড়ায়নি সীমানার কাটাতার
এ যেন প্রকৃতির দুই পারে দুটি সংসার।
সে সবুজ পাহাড় ভেদ করে 
রুপ-লাবণ্যে ভরা সুজলা-সুফলা সমতলে
বহু কাল ধরেই চেলা ঘুমিয়ে আছে নীরবে।
চেলা কখনো স্রোতস্বিনী কখনো বালিকা রশ্মিতে-
ছড়িয়ে দেয় তার নীল আঁচল।
বর্ষায় উত্তাল তরঙ্গে  ভরা যৌবন তার
শীত বসন্তে ধূ ধূ মরুময়।
ওই চেলার বাঁকে কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে
চর্যাপদের হরিনীর সাথে হয়েছিল দেখা
সেদিন গোধূলী লগ্নে দু’জনেই খেলেছিলাম বালি খেলা।

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী। সুনামগঞ্জ