অটোয়া, শুক্রবার ২০ মে, ২০২২
আব্দুল্লাহ আল আহনাফ-এর কবিতা

দেশ মাতার ছবি
মুদ্রে করিয়াছি স্নান উত্তাল দিবসে
এই শুনিয়া বিশ্ব মুখ লুকাইয়া হাসে,
অধম বলিয়াই কি থাকিব নীরবে?
বিশ্বকে দেখার তরে উদ্দীপ্ত গরবে
অদম্য প্রাণে ছুটিব চারিদিক,
আমি হলাম দুর্দান্ত পথিক।

দেখিয়াছি মেলায়ে আঁখি যবে
ভাবিয়াছি অচেনাকে চিনিব কবে?
বিশ্বের লঘু আয়োজনে,
মন মোর ছুটিয়া যায় সুদূর পানে।

এই সব দেখিয়া বিশ্ব কহিল মোরে
দেখেছিস কী কভুও শিশুকে মাতৃক্রোড়ে?
হেসে-খেলে লুটায়ে পড়ে লয়ে মৃত্তিকার দেখা
আরও জানিস কী প্রজাপতির ডানায় আঁকে রামধনুর রেখা।

ভাবিয়া কহিলাম আমি দেখি নাই জানি নাই কভু,
ভ্রম! শিশির বিন্দুর জলে ডুবিয়াছিলেম প্রভু
তব চাহিয়া বিশ্বের পানে কহিলাম শোন ভাই,
দেখিব দেশ মাতার ছবি;বুঝিনু মাতৃভূমির সমান আর কিছু নাই।

উদাসী গল্পের তরে
মি বহুদিন হলো প্রতীক্ষায় আছি এক টুকরো স্নেহের
দীপালিরেখার দীপ জ্বেলে কেহ আসেনি,দুঃখ ই পেয়েছি ফের;
সেকালের পুরনো জুতাখানি বাবা আজ আর পড়েনা
সভ্যতা নাকি পেয়েছে আধুনিকতা সোনার খাঁচায় করে আয়োজন;
ধূসর পৃথিবী হয়েছে ঘন নীল,কমেছে সবুজের আনাগোনা,
নিবেদিত প্রণয়ে উঠেছে মেতে-প্রেমিকেরা চায় শুধুই মাংসের মিলন।

আহা! চারিদিকে ক্লান্ত নীরবতা দেখে দেখে চোখ যায় ভরি
আমার শৈশব-কৌশর গেছে যৌবন ফুরাতেছে নিভিতেছে জীবন তরী,
কথা রাখেনি নিশিতা,সমস্ত দিনের শেষে কেবল ই আহাজারি
কাব্যিক মহাযাত্রীর দলে তাহারে দিয়েছি আসন,আগলে রেখেছি বাহু ডোরে;
বোঝেনি কো সে প্রণয় খেলা তাই সন্ধ্যাবাতি নিভিয়ে গেছে শিশিরের ভোরে
স্নেহের আলোড়নে ক্ষমাহীন বুকের শাখায় তাহারই পূজা-বন্দনা করি।

জীবন নিভিতেছে,মলিন দেহ হয়েছে অচল,শূণ্যে মেলাতেছে চেতনা,
কোনোদিন আর জ্বলিবেনা আশার প্রদীপ-ক্ষয়ে গেছে আয়ু
সমস্ত রাত্রিকে পেছনে ফেলে ঈশান কোণে বহিতেছে নির্মল বায়ু,
পৃথিবীর মিছে মায়া রবে অনন্তকাল এই সব হলো কিছু জানা;
হে জীবন কারিগর,মিনতি করি তোমার কাছে ক্রন্দন স্বরে
উদাসী গল্পের তরে রোদ্দুরে দু-প্রহরে তুমি ক্ষমা করো মোরে।

আবদুল্লাহ আল আহনাফ 
শাহজাদপুর, সিরাজগন্জ