অটোয়া, সোমবার ২৩ মে, ২০২২
শৈবাল - মুতাকাব্বির মাসুদ

কালো হিজলের ডালে কালো বোরকা পড়া কোকিল; আলতা চোখের দ্যুতি,
কালোকাজলের দেহে নিঃসঙ্গ উঠোনে
রক্তজবার রিক্ত পাপড়ি, মায়াবী পাতার চোখ, সে চোখে পড়ে আছে কবিতার ইতিহাস আর কষ্ট-সুখের পদাবলি।
-----
মেঘেরা বরফের ভেজা ভেজা চোখে,
সাদা সাদা বকফুলে সাজায় বিশ্বাসের
বাসর আকাশের উদাস চিকন ঠোঁটে,
আঁজলা ভরে চোখসাগরের নোনাজল,
আগলে রাখে বুকের ঘরে নালার ভেতর।
-----
পুনর্ভবা নদীর ধারে লাল কাঁকড়ার মাটির ঘর, পোয়াতি শামুক শান্তির চিত্র কলা
উদ্ধৃত করে অতি ক্ষুদ্র শুভ্র ডিমের প্রাণে,
নদীর চোরাস্রোতে আমার মগজের ভাবনাগুলো মাছরাঙ্গার নীল ডানায় খেলা করে, আমি হারিয়ে যাই বেমালুম নদীর
উদ্ধত তরঙ্গ বীবরে।
------
নদীর জলে পদ্মদেহে ভৈরবীর সুর,
স্বপ্নচোখে বুকের ভেতর পুনর্ভবা নদীর ঢেউ
গলদা ফড়িঙ রুগ্ন ডানায় দুঃখ নিয় ওড়ে,
সুখের স্বপ্নে বুকের ভেতর তুফান তুফান
খেলা; জলের নীচে মাছের পিঠে রূপোলী
সুখের ঝিলিক।
-----
লজ্জাবতীর নরম দেহে ব্যালেরিনার নৃত্য,
জাঁকা হাওয়ায় তুলে ঢেউ জঘন কাঁপিয়ে,
বিবর্ণ বৈঠার কৃষ্ণ ঠোঁটে জমরুদ বিছানা,
নীলাম্বরী হাওয়ায় সুজন হাসে সুনীল ঠোঁটের বাঁকে; কষ্ট-সুখের ইচ্ছেগুলো মেলে
ধরে ঘোলা জলের ঘোলা ঢেউয়ে,
শৈবাল জীবনে একবার-ই মরে
জলের অতলান্তিক গভীরে।
-----
নদীর ধারে কলাপাতার ঘর, আশার পিদিম
জ্বলে জ্বলে নদীর ঢেউয়ে শান্ত,
বালিকা বধূর রোজ সকালে কলসি ভরা সুখ, বাসর সুখের ইচ্ছেগুলো জলের ঢেউয়ে বিছিয়ে দিতো;
জারুল বনের উড়াল ফুল সিঁথির সিঁদুরে শুদ্ধ, বিভাসিত সিঁথির ওমঠোঁটে বিধাতার
হাসি, নিমিষেই অদৃশ্য হয় পুনর্ভবা নদীর জলে,
-----
নতুন এক অস্তিত্বের ভেলা ওড়াই আমি পাখির ঠোঁটে,
চোরাবালির মিহি স্রোতে আমার সুখের ডেরা, বধূর ঠোঁটে পালা কবুতরের ঘর,
জারুল বনের হলুদ পাখির মিষ্টি সুখের
শিস,ভরা নদীর ভরা জলে বাঁশির সুরে
থাকনা আমার কষ্টগুলো নদীর জলে।

মুতাকাব্বির মাসুদ । শ্রীমঙ্গল, বাংলাদেশ