অটোয়া, শনিবার ২১ মে, ২০২২
আরিফ বখতিয়ার এর কিশোর কবিতা

থমকে আছে চাঁদ

চোখ খুলেছে রাতের আকাশ
খোকন রে তুই যেমনি তাকাস
উড়াল সেতু পার হলে তুই দেখবি কাঠের পুল,
বাগানবিলাস শুকিয়ে গেছে, শুকনো ডালেই ফুল।

দালান কোঠা ইস্টিশন
পার হলে পাই মিষ্টিবন।
মেঘের দেশে মেঘপরীরা একটু আসে নেমে,
খোকন রে তুই থামিস গিয়ে শরীর গেলে ঘেমে।

হাওয়ার পাখি বাইরে রয়,
ঝিরঝিরানি হালকা বয়।
হুক্কা হুয়া শেয়াল ডাকে রেল লাইনের ধারে
কু ঝিকঝিক রেল গাড়িটা কুর্মিটোলা ছাড়ে।

কুর্মিটোলার দখিন গেটে
দুই দাড়োয়ান যাচ্ছে হেঁটে।
আর কিছুদূর সামনে গেলেই বালু নদীর ঢাল
পূর্বাচলের জমিন যেন বিছিয়ে আছে জাল।

বালু নদীর ছোট্ট চর
ধীরেন মাঝির নতুন ঘর
উঠোন জুড়ে ধান কাউনের সুবাস তো নেই মোটে,
ইটের গাড়ি শব্দ করে হাওয়ার বেগে ছোটে।
ছুটতে থাকে পূর্ণিমা চাঁদ ডাইনে থেকে বামে,
ক্লান্ত হয়ে খোকন সোনা বাড়ির পাশেই থামে।

থমকে আছে খোকন সোনা
থমকে আছে চাঁদ
এই শহরের উঠোন জুড়ে
ইট-পাথরের ছাদ।

তিন পুকুরের গ্রাম

একটি বাঁশের সাঁকোর পরে
তিন পুকুরের গ্রাম,
বট শিমুলের শিকড় দিয়ে
নাম লিখে রাখলাম।

সব’চে বড় পুকুর যেটা দুই ধারে বাঁশঝাড়
আর দু’ধারে আমের বাগান চওড়া সে দুই পার।
এই পুকুরে মাছগুলো রোজ কিলবিলিয়ে চলে
রাত গভীরে বন্ধু হয়ে মনের কথা বলে।

আরেকটা ঠিক পুকুর আছে গাঁয়ের মধ্যিখানে
রঙিন পানির পুকুর বলে পাড়ার সবাই জানে।
সকালবেলা সূয্যিমামা আলোর রশি ফেলে
সাত আকাশের রামধনু রং দিয়ে গেছে ঢেলে।
তার উপরে গাছের পাতার সবুজ সবুজ রূপ,
বৃষ্টি এলে ঝরায় পানি জল পড়ে টুপটুপ।

শেষ পুকুরের নাম রূপসী অনেক গভীর জল
স্বচ্ছ এবং কাঁচের মত রূপ করে ঝলমল্।
পূর্ণিমা চাঁদ নামলে জলে রূপোর বাসনখানি
রাত গভীরে হাসতে থাকে এই পুকুরের পানি।

এটার পারেই আমার বাড়ি
তিন পুকুরের গ্রাম
রূপোর জলে চাঁদের গায়ে
নাম লিখে রাখলাম।

আরিফ বখতিয়ার । বাংলাদেশ