অটোয়া, সোমবার ২৩ মে, ২০২২
জলের কান্নার শব্দ "এ নিউ টেস্টামেন্ট অফ রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট" - শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

বিশিষ্ট নাট্যকার পরিমল ত্রিবেদী'র প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান 'মালদা মালঞ্চ'-এর ৫দিন ব্যাপি নাট্যোৎসবের সমাপ্তি ঘটলো "এ নিউ টেস্টামেন্ট অফ রোমিও অ্যান্ড  জুলিয়েট '' দিয়ে। প্রযোজনা এম্পটি স্পেস, ঢাকা,  বাংলাদেশ। রচনা, সাইমন জাকারিয়া।

একটা নাটকের মত নাটক, যা প্রকৃত রচনাকারের হাত থেকে বেরুনো মানবতারোধী একটি জলাশয়ের অপমৃত্যুর মত শুকনো খটখটে!  যার ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে জলের কান্নার শব্দ শোনা যায়।   

শুরুতেই হোঁচট খেলাম! আত্মহত্যার যে-কাহিনী পৃথিবীর অন্যতম প্রেম-কাহিনী, এবং যা নিয়ে পোস্টমর্টেম করতে চারশো বছর আগের কবরখানা থেকে একে একে রোমিও, জুলিয়েট, ফাদার ফায়ার এবং নাটক রচয়িতা শেক্সপিয়রকে একজন কবি, (গোলাম শাহারিয়া সিক্ত) তুলে এনে এইসময়ের কবরখানায় দাঁড়িয়ে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করলেন, আসুন সেই প্রসঙ্গে যেতে যেতে আমরা পার্থক্য খোঁজার চেষ্টা করি - what's the defference Between the old testament and new testament? 
J.W.walker, যিনি ৩০ বছর ধরে বাইবেল ও বাইবেল সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করেছেন, আমরা তার মতামতটুকু নিই। 
they are both testaments /convenants.the same as last will and testamen. (Hibrews7-9; the entire letter is the best Single answer to your question)  তিনি বাইবেলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছেন -The old testament was a covenant Between the hibrew people and GOD. Sacrifice to and serve Jeovah GOD in exchange for his blessing them with peace and prosperity in the warld. That old covenant was established upon certain agreed upon written laws Between GOD and hibrew people: obey and be blessed. Disobey and be cursed. Because, all the World were living in a condition contrary to GOD's ereated intention,and therefore subject to GOD's disapproved and ultimate judgment, the hebrews would escape the condition and be a light to there sin darkened neighbours. অপরপক্ষে নিউ টেস্টামেন্ট, তার থেকেও বহু বছর বাদে, সেখানে কি বলা হোলো, সেই পাঠটুকু নিয়ে (সংক্ষিপ্ত)  আমরা নাট্য- আলোচনায় ফিরে যাবো।  the new covenant is not based on mankind's ability to perform. GOD has intiated a convenant with those, who" believe" he is able to declare righteous those who come to him through Jesus christ, whose death on there behaf, for there salvation, was his last will and treatment. Those who come to GOD via this convenant inherit all that christ GOD's son,in all of his riches and glory has bequeath to them. 

এই হোলো দুই টেস্টামেন্টের মধ্যেকার মূল  পার্থক্য। এটুকুই থাক। এবারে নাটক আলোচনায় যাওয়া যাক। এখানে আমরা মূল শেক্সপিয়র রচিত পৃথিবীর অপূর্ব, অপূর্ণ প্রেমিক প্রেমিকা, এ নিউ টেস্টামেন্ট অফ রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েটের মৃত্যুর অবাঞ্ছিত পরিনতির মধ্য দিয়ে কবর বা সমাধি স্থলে প্রবেশ করবো।  ছবিটা কেমন, তা দেখবো। এক নির্জন হেমন্তের জোৎস্না ধোয়া রাত। এই সময়ের একজন কবি সমাধি স্থলে দেখলেন, সমাধির মধ্যে থেকে রোমিও ও জুলিয়েট তাঁদের পরস্পরকে খুঁজে পেয়েছেন চারশো বছর পরে। কবি প্রথমে রোমিওকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করে রোগালিনের সাথে তার প্রথম প্রেম ও তার বৈধ অবৈধতা নিয়ে চুলচেড়া দ্বান্দ্বিকতায় প্রেক্ষিতকে জটিল করে তুললেন। মঞ্চে তৈরি হোলো এক অদ্ভুত উন্মাদনা, যা জুলিয়েটকে তাঁর অমর প্রেম নিয়ে কোনঠাসা করে ছাড়লো। অবিশ্বাস, দ্বন্দ্বের দৈবীরূপ হিসেবে ফাদার ফায়ার আসলেন। সুকৌশলী কবি, ফাদার ফায়ারকে বললেন - আপনি নিজে একজন দেবদূত হয়েও আপনি কৌশল অবলম্বন করলেন। কেন? কেন তবে জুলিয়েটের হাতে মদিরা পাত্র তুলে দিলেন, তার প্রতিক্রিয়া মৃত্যু জেনেও। কেন? ফাদার হাত ঝেড়ে নিয়ে রচয়িতা মহাত্মা শেক্সপিয়রএর দিকে আঙুল তুলতেই চারশো বছরের মাটির গর্ভ থেকে উঠে আসলেন তিনি। দুর্দান্ত ক্লাইম্যাক্সএর ট্রাজেডি শুরু হোলো ঠিক এখানে এসেই। 

প্রশ্ন জাগে- যে, সাড়াজাগানো সাহিত্যের রচনাকার কেবল 'রোমিও জুলিয়েট 'রচনা করেই পৃথিবী বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলেন সেই নিউ টেস্টামেন্টের যুগে! ঈশ্বরের নির্দেশকে বাস্তবায়িত করার অধিকারী ফাদার ফায়ার, তার অসম্ভব প্রিয় জুলিয়েটের হাতে, (যে না কি ফাদারের কাছে শাশ্বত প্রেমের অমরত্বের ভিক্ষা চাইতে এসেছিলো)মদিরাপাত্র তুলে দিলেন নির্দ্বিধায়! কেননা, মহাত্মা শেক্সপিয়ার এমনটাই চেয়েছিলেন।  আঁতকে উঠলেন একালের কবি। কি বলছেন ঈশ্বরের দূত!  অতএব আবারও সমাধি থেকে উঠে আসলেন শেক্সপিয়ার নিজে। কারণ সময়টা,যুক্তিবাদের। মহাত্মা শেক্সপিয়ারকে মাটির ওপরে যে উঠে আসতেই হবে!  বাইবেলের দোহাইও তার্কিক কবিকে শেক্সপিয়ারএর সামনে অবদমন করতে পারলো না। কারণ তিনি নিউ টেস্টামেন্ট থেকে, কবর থেকে অনেক (৪০০ বছর পর) উপরের একজন মানুষ। তিনি মাটির ওপরের মানুষ। কবি জানেন - আপন সৃষ্টি সন্তান তুল্য। তাকে তৈরি করা যায়। কিন্তু তাকে ধ্বংশ করা যায় না। ঈশ্বরবাদ, বাদ হয়ে গেছে। আজ কেবলই মানবতাবাদের জমিতে মানুষের চাষ হবে, যে মানুষের মনে প্রেমের অমরত্ব লিখে দিতে পরিপার্শ্বিক, জাগতিক বাস্তবতা মেনে চাঁদ উঠবে আকাশে।  অবশেষে মহাত্মা শেক্সপিয়ার এমনটাই আজ হলে বলতে পারতেন- স্বীকার করে নিলেন। কিন্তু সেই নিউ টেস্টামেন্টের যুগে তিনি তা পারেননি। কারণ তিনি সেসময় তা করতে পারলে, তাঁর সাজা হোতো। ফাদার ফায়ারএর সাদা পোষাক খুলে নিয়ে তাঁকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হোতো। এমনকি মৃত্যু দণ্ড পর্যন্তও হোতো। বোঝাই যাচ্ছে - যুক্তিবাদের স্তরকে অতিক্রম করেই মানবতার যখন জয় হয়,পিছু হটে ঈশ্বরবাদ। আর সেই জন্যই আপন সৃষ্টি রোমিও এবং জুলিয়েটের হত্যাকারী,  মহাত্মা শেক্সপিয়ার ক্লাইম্যাক্স, অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্সের ভেতর দিয়ে নিজের অপারঙ্গমতাকে স্বীকার করলেন এবং ধন্যবাদান্তে ফিরে গেলেন সেই মহান নাট্যকার সমাধির নীচের অতলান্ত অন্ধকারের নিউ টেস্টামেন্টের যুগে। দেখুন পাঠক - একটি মহান সাহিত্য থেকে কি ভাবে যুগ- পরিবর্তন এর হাত ধরে দ্বন্দ্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বএর ভেতর দিয়ে নতুন সাহিত্য তৈরি হয়, যা করে দেখালো এম্পটি স্পেস, ঢাকা, বাংলাদেশ।    

সমগ্র বাংলাদেশের অনেক জায়গায় প্রচুর নাটকের চর্চা হচ্ছে। এমনই নাটক বিষয়ক আলোচনা এর আগেও আশ্রম পত্রিকায় করেছি। তা থেকে বহু গুনমুগ্ধ পাঠক পাঠ- প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছিলেন। তাই আবারও আর একটি প্রচেষ্টা সকলের জন্য নিবেদন করতে কলম ধরলাম। শেষ করছি এটুকু বলেই যে, আজকের আজকের, এইসময়ে ঢাকা, বাংলাদেশের " এম্টটি স্পেস"এর এই নাটকটি মনে করিয়ে দেয়, ভাবতে শেখায় - সাহিত্যের বি- নির্মাণএর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একজন লেখকের অপূর্ব ঠোকাইএর কারুকার্যতা।

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস । পশ্চিমবঙ্গ