অটোয়া, সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯
ফড়িং-ধরা বিকেল (চতুর্থ অংশ) – নূরুন্‌ নাহার

 

ফড়িং-ধরা বিকেল তৃতীয় অংশ পড়তে ক্লিক করুন

চতুর্থ অংশ 

কাঁটাতারের বেড়া
[ উৎসর্গঃ হেমাঙ্গ বিশ্বাস, পীট সীগার ও পল রবসন—যাঁদের জীবনের জয়গান প্রাণ ছুঁয়েছে ]

দিন তারিখ কিছুই মনে নেই।
কেবল স্মৃতিরা কানাকানি করছে।
এমন একদিন আমরা দু’বোন বেনাপোল বর্ডারে বাবার অফিসে বেড়াতে গিয়েছিলাম। বর্ডারের সীমানা ছিল কাঁটাতারে ঘেরা। খেলতে খেলতে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে কোন ফাঁক দিয়ে যেন আমরা দু’বোন ওপারে ভারতের সীমানায় চলে গিয়েছিলাম। দু’জন সীমান্ত প্রহরী ছিল, তারা খেয়াল করেনি আমাদের সীমানা পেরিয়ে যাওয়াটা। যখন তাদের চোখে ধরা পড়েছিলাম, তখনো আমরা আনমনে খেলছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই হইচই পড়ে গেল। আমাদের অপরাধ আমরা কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে সীমানা পেরিয়েছি। আমরা সেদিন বুঝিনি সীমানা পার হওয়া গুরুতর অপরাধ। কিছুতেই আমাদের ছাড়বে না সীমান্ত-প্রহরীরা। শেষমেষ বাবার সুপারিশে সে-যাত্রায় রক্ষা পেয়েছিলাম, বাবা কাস্টম-অফিসার ছিলেন বলে। না হলে খবরের কাগজের পাতায় ফেলানীর মতো খবর হয়ে যেতাম।

সেদিন একেবারেই বুঝিনি সীমানা কাকে বলে!
আজ জীবনের সীমানায় দাঁড়িয়ে বেশ বুঝতে পারছি সীমানা কী এবং কাকে বলে!

পুকুরে সাঁতার
[ উৎসর্গঃ আলোর ঝরনাধারা সরদার ফজলুল করিম, সেলিনা হোসেন ও মুহম্মদ জাফর ইকবাল-কে ]

বেনাপোল কলোনির কাছে হিন্দু-পাড়ায় একটা পুকুর ছিল। সেই পুকুরের পানি কেমন যেন ঘন কালো স্বচ্ছ ছিল। পানি ছিল গভীর। আমরা দু’বোন আর বাবা মিলে সেই পুকুরে সাঁতার কাটতাম পাল্লা দিয়ে।
বোন আর বাবা এগিয়ে যেত বহুদূরে।
আমি পড়ে থাকতাম পিছে।
কী যে ভালো লাগত সেই সাঁতারের পাল্লা।
আজ লিখতে বসেই ইচ্ছে করছে সেই গহীন জলে গা ভাসিয়ে দিতে। বাবাকে মনে পড়ছে।
বাবা ছিলেন আমাদের দু’বোনের বন্ধু।
কোথাও আর খুঁজে পাইনে বাবাকে!
আর কোনোদিনও সাঁতারের পাল্লা দেয়া হবে না বাবার সঙ্গে!
কেন এমন করে সব মনে পড়ছে?
কেন আমাকে সব কথা লতার মতো ব্যথায় জড়িয়ে ধরছে?
আমার পালাতে ইচ্ছে করছে ব্যথার লতা ছিঁড়ে!
বাবা তো আর ভুলেও আসবে না সেই সরে-যাওয়া দিনগুলিতে!
আবার কান্না পায়!
ব্যথা করে বুকের বাঁ পাশে!
তবু স্মৃতিরা ঝাঁক বেঁধে আসে!… … …. চলবে

ঢাকা, বাংলাদেশ 

লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে ক্লিক করুন

ছড়া ও কবিতাঃ বর্ষা যখন – নূরুন্‌ নাহার