অটোয়া, বুধবার ১৯ জুন, ২০২৪
মুহাঃ হাবিবুর রহমানের দুটি কবিতা

১)  মেঘ জ্যোৎস্না

মেঘ জ্যোৎস্না খেলা করে আকাশের কোল জুড়ে
রাতের বাসরে ঘুমায় ধরনী মায়ার চাদর মুড়ে,
মাতাল হাওয়া দোল দিয়ে যায় নিঝুম তারার গায়
পরীরা এসে ঘুম চুম দিয়ে স্নেহের পরশ বুলায়,
ডাকে মোহমায়া এসো গো কাছে, বসবে হৃদয় মাঝে
চোখের তারায় জ্বলবে তোমার প্রেম স্বপ্নের মতো সাজে,
আজিকার রাত অন্যরকম আলো আঁধারে লুকচুরি
মেঘেরা হারায় দূর পরবাসে আপন  ডানায় ভর করি,
নীরব ক্ষণে রাত জাগা পাখি ডেকে ওঠে আনমনে
সাথী হারা শূন্যতা বাজে হৃদ জুড়ে সে কথা কে জানে?
মেঘ জ্যোস্নায় মায়ার খেলা রাতের বাসর ঢাকে
শূন্য শয্যায় বেদনা বিধুর, সখা সখিরে কাছে ডাকে, 
তবুও অতৃপ্ত মনের সাধ এই বুঝি জীবনের আহবান
লুপ্ত সময়ের ফেলে আসা দিন মহামিলনের কলতান,
ঝি ঝি পোকারা দল বেঁধে ডাকে সে কি মধুর ঝঙ্কার
জোনাকিরা জ্বালে আলোর মশাল, আলোকিত এপার ওপার,
নীড়ে ফেরা পাখি ক্লান্ত দেহে ঘুমায় শান্তির ঘুম চোখে
প্রেয়সীর টানে কাতর সে জন, তার ব্যাথারে খবর কে রাখে?
মেঘ জ্যোস্না ঢালো অবিরত স্নিগ্ধ আলোর বান
তোমা রুপ মাধুরী গায়ে মাখি তাতেই করি স্নান,
তাকিয়ে দেখি সাদা সাদা ফেনা ধরনীর বুকে পড়ে এসে 
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চাই, দাওনা ধরা  মধুর আবেশে।

২)  বৈশাখী দিন

বৈশাখী দিন তপ্ত দুপুর, গগন পুড়ে আগুন ঝরে
খরায় ধরা খাঁ খাঁ জমিন বৃক্ষ-লতা যায় গো মরে,
আকাশ জুড়ে অগ্নি বানে সূর্যি ঢলে চারি দিকে
মরু সাহারার লু হাওয়া পৃথিবীটা দিচ্ছে সেকে
তপ্ত দুপুর 
রৌদ্র মাখা 
গাত্র জুড়ে ঘামের ধারা-
সেই যাতনায় মনুষ্যকূল
তাবৎ প্রাণি পাগল পারা,
দহন বেলায় দগ্ধ শরীর-
অঙ্গার হয় স্নিগ্ধ আবীর,
দিকে দিকে জাগে রোদের কণা
বিষাক্ত রুপ যেমন ফণা
হায় বিধাতা এবার থামুক-
প্রজ্জলিত শিখা, বৃষ্টি নামুক!
ঝরা বারিধির ফোটায় ফোটায়
সিক্ত হোক পোড়া জমিন
সবুজে শান্তি, তাই বলি আমিন!

মুহাঃ হাবিবুর রহমান
নওয়াবেঁকী, শ্যামনগর
সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ